পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র গড়ে তোলেন টিকটক হৃদয়

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ০২:২৩ এএম

বাংলাদেশি এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার রিফাতুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় বাবুকে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি (ইন্টারপোল) শাখার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ। তিনি জানান, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুজনই বাংলাদেশি হওয়ায় দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার নিজ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, নির্যাতনের শিকার তরুণী আর্থিক অনটনের কারণে ভারত হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার চিন্তা করেছিল। কেরালায় বাংলাদেশের হৃদয়সহ কয়েকজন তার ওপর ভয়ানক নির্যাতন চালায়।

শহীদুল্লাহ জানান, রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যের কিছু অপরাধীর সঙ্গে মিলে মানব পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্র গড়ে তোলে। তারা পাচারের উদ্দেশ্যে তাকে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার করে। পরে হৃদয় আরও পাঁচ সহযোগীসহ গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। শুক্রবার ভোরে ঘটনার তদন্তে পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার পায়ে গুলি করে পরে একটি হাসপাতালে ভর্তি করে।

উপকমিশনার শহীদুল্লাহ বলেন, পাচারকারীদের জাল বাংলাদেশ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইসহ কয়েকটি দেশে ছড়ানো। ওই তরুণীকে নির্যাতনে অংশ নেওয়া তারা সবাই আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। যাদের পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি (ইন্টারপোল) শাখার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। 

তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা স্কুল-কলেজের বখে যাওয়া ছেলেমেয়েদের টার্গেট করত। বিশেষ করে টিকটক গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে পরে তারা কৌশলে পাচারকাজে সহযোগিতা করছিল।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ভারতে গ্রেপ্তার টিকটক হৃদয় টিকটকের একটি গ্রুপের অ্যাডমিন। সেই গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার একটি অভিজাত রিসোর্টে ৭০০-৮০০ তরুণ-তরুণী পুল পার্টিতে অংশ নেয়। মূলত টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে একটি ফেইসবুক গ্রুপে সংযুক্ত হয়। যে ফেইসবুক গ্রুপটির মূল পৃষ্ঠপোষক ওই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রটি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই গ্রুপে নির্দিষ্ট কিছু ছেলে গ্রুপের নারী সদস্যদের টার্গেট করে। তারা ভারতের বিভিন্ন মার্কেট, সুপার শপ, বিউটি পার্লারে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করে আসছিল। চক্রটির মূল আস্তানা ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায়।

পুলিশ জানায়, ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর পড়াশোনা ছেড়ে বন্ধুদের নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরিতে জড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন করছে তিন-চার যুবক ও একটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ জানায়, নির্যাতনের ঘটনাটি ভারতের কেরালার। তবে ভিকটিম ও নিপীড়কদের একজন বাংলাদেশি নাগরিক।

ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সেখানে গেছে, তাদের কোনো পাসপোর্ট, ভিসা নেই। মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি মামলায় এনসিবির মাধ্যমে দ্রুততর সময়ে তাদের আমরা দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় ভারতেও মামলা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের মামলার প্রধান আসামিও টিকটক হৃদয়, তাই তাকেসহ অন্য সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এছাড়া দেশে থাকা অবস্থায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে রমনা থানায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত