চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। ফলে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টি না হওয়া ও অপরিকল্পিত পাম্প স্থাপন ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। সাধারণত পানির স্বাভাবিক স্তর থেকে ২৬ ফুটের নিচে নামলে হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে পানি ওঠে না। আর যদি তা স্বাভাবিক স্তর থেকে ৩০ ফুটের নিচে নেমে যায়, তাহলে বাসাবাড়িতে মোটর দিয়ে পানি তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ২৩৩৮টি গভীর ও ১৫৩৬টি অগভীর সরকারি নলকূপ রয়েছে। তার মধ্যে ২৮৩টি গভীর ও ২২০টি অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে আছে আরও ৭-৮ হাজার গভীর-অগভীর নলকূপ। এর মধ্যে বেশিরভাগ নলকূপে এখন পানি উঠছে না।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় বছর দশেক আগে থেকে প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিম্নগামী হওয়াতে এ সংকট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে উপজেলায় সাধারণ নলকূপের পানির প্রবাহ হ্রাস পেতে থাকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অগভীর নলকূপে পানি ওঠা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকায় খাবার পানির সংকট দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মহতরপাড়া, কৈনপুরা, চুন্নাপাড়া, হাজীগাঁও, বৈরাগ, বন্দর গ্রামে অগভীর নলকূপগুলোয় পানি উঠছে না। এসব এলাকার নলকূপগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। অপরদিকে উপজেলার রায়পুর, দক্ষিণ পরুয়াপাড়া, উত্তর পরুয়াপাড়া, বোয়ালিয়া, দুধকুমড়া, পীরখাইন, মালঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠলেও লবণাক্ততার কারণে পান করা যাচ্ছে না।
উপজেলার উত্তর বন্দর গ্রামের আহমদ হোসেন জানান, প্রায় চার মাস ধরে তার বাড়ির নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। আশপাশের যত নলকূপ আছে, সব কটিরই একই অবস্থা। চুন্নাপাড়া গ্রামের আলী আহমদ জানান, তার অগভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। পানি ঢেলে অনেকক্ষণ চাপ দেওয়ার পর পানি আসে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়াংকা চাকমা বলেন, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা এই মৌসুমেই হয়ে থাকে। যে পরিমাণ পানি তোলা হয়, সে পরিমাণ পানি প্রাকৃতিকভাবে ফিল্টার হয়ে নিচে না নামলে এ সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া অধিক মাত্রায় পলিথিনের ব্যবহারের কারণে পানি নিচে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ২৮৬টি গভীর নলকূপ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টিপাত শুরু হলে এ সমস্যা থাকবে না।
