এক বছর আগের ঘটনা। ভারতে চলছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম ঢেউ। দেশজুড়ে চলছিল লকডাউন। সব যানবাহন বন্ধ। সেই সময় হরিয়ানার ভাড়া বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন কিশোরী জ্যোতি কুমারীর রিকশাচালক বাবা। উপায় না দেখে সে বাবাকে সাইকেলে চাপিয়ে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে বিহারের দারভাঙার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় অর্ধভুক্ত থেকে, সাত দিন সাইকেল চালিয়ে ১২০০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে বিহারে পৌঁছায় তারা। সে সময় কাজের খাতিরে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আসা লাখ লাখ শ্রমিক, অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু যারা হেঁটে বা সাইকেলে চেপে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে বাড়িতে রওনা দেয়, তাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল জ্যোতি।
সে সময় জ্যোতির বাবা বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই জ্যোতি বাড়ি ফেরার কথা বলে। আমি মেয়েকে বলি, আমরা এখন কোনো বাস বা ট্রেনে করে ফিরতে পারব না। আর আমার হাঁটার মতো শক্তি নেই। জ্যোতি বলে, আমাদের একটা সাইকেল কিনতে হবে। তিনি জানান, এরপর ধারদেনা করে সাইকেলটি কিনেন তারা।’
কঠোর পরিশ্রম ও অনমনীয় চেষ্টার কারণে শুধু ভারতে নয়, জ্যোতি আলোচিত বিশ্বদরবারেও। জ্যোতি তার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার পায়। বিস্ময়কন্যা জ্যোতির পড়াশোনা করানোর দায়িত্ব নেন বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির প্রেসিডেন্ট চিরাগ পাসওয়ান। এমনকি জ্যোতি দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাস করার পর তাকে ট্রায়ালে ডেকে পাঠানোর কথা জানায় সাইক্লিং ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া।
তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত ভারতে জ্যোতিকে দেওয়া আশ্বাসগুলোর কোনোটিই পূরণ হয়নি। উল্টো গত মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জ্যোতির বাবা।
