দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় গত ৩০ মে প্রকাশিত ‘২৫০ টাকার সুই ২৫ হাজার’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি দেশ রূপান্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বলে কর্র্তৃপক্ষের নিকট প্রতীয়মান হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল। হাসপাতালটি সেবার মানদণ্ডে ইতিমধ্যেই সারা বাংলাদেশে যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বিশেষায়িত হাসপাতালের ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি পর পর তিন বছর (২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯) শীর্ষস্থান অধিকারী হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে।’
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ প্রতিবাদলিপিতে বলেছে, ‘হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ে পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০০৮-এর সকল বিধিবিধান অনুসরণ পূর্বক সমস্ত মালামাল ক্রয় করা হয়। উক্ত মালামাল ক্রয়ে কারোর কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি করার সুযোগ নাই। কারণ সমস্ত ক্রয় প্রক্রিয়া সরকারি বিধি মোতাবেক নির্ধারিত মূল্যর মধ্যে প্রতিযোগিতা মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, একই জিনিসের ঈড়ঁহঃৎু ড়ভ ঙৎরমরহ এবং গধহঁভধপঃঁৎবৎ’ং গুণাগুণ ও ব্যবহার উপযোগী ভেদে মূল্যের ব্যাপক তারতম্য হয়ে থাকে যা অনেকের অজানা।’
ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় গত ২০১৯ সনে দু-একটি ইলেকট্রনিক/প্রিন্ট মিডিয়ায় কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তীব্র প্রতিবাদ করা হয়। শুধু তাই নয় উক্ত অভিযোগের বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন তদন্তকারী ও অনুসন্ধানী সংস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদন্ত করেন এবং অভিযোগটির সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন। এছাড়া ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের কেনাকাটার বিষয়ে সিভিল অডিট কর্র্তৃক অডিট কার্য সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়নি। একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুনরায় একই বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশ করা নিতান্তই হীনমন্যতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছুই নয়।’
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল দেশের মানুষের একটি আস্থার জায়গা। এ হাসপাতালটি নিয়ে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করে হাসপাতাল ও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সুনাম ক্ষুন্ন করা কখনোই কাম্য নয়।’ এছাড়া এই হাসপাতালের বিষয়ে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করার জন্য প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের কেনাকাটা নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। বাজারদর যাচাই করে হাসপাতালটির কেনা পণ্যের দামের সঙ্গে বিশাল ফারাক পাওয়ার বিষয়টিই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে কয়েকটি পণ্যের সর্বোচ্চ বাজার মূল্য উল্লেখ করে সেগুলোর মধ্যে কোনটি ১০০ গুণ বেশি দামে কেনার তথ্য তুলে ধরা হয়। এ কেনাকাটা নিয়ে ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ওই ঘটনায় কারও শাস্তি না হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ডা. ফারুক আহমেদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়।
