ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মোবাইল খাতের করকে যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি বলেছে, এ খাতটি ইতিমধ্যে করভারে জর্জরিত। তাই ন্যূনতম কর, করপোরেট কর, ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং, সিম ট্যাক্সসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে কর হ্রাস করা জরুরি প্রয়োজন।
অ্যামটব জানিয়েছে, মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে ইতিপূর্বে সুপারিশ প্রদানসহ নানাভাবে সরকারের কাছে এ খাতের ওপর বিদ্যমান উচ্চকর ব্যবস্থা যৌক্তিক করার আবেদন জানিয়ে এলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। অথচ কভিড-১৯ চলাকালীন মোবাইল ফোন খাতকে জরুরি ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ব্যবসার পাশাপাশি অর্থনীতি পরিচালনায় গ্রাহকদের সংযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এখন এ খাতের লক্ষ্য হলো পিরামিডের নিচের অংশে থাকা নিম্ন আয়ের লোকদের সংযুক্ত করা। তাই অপারেটররা সরকারকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মোবাইল টেলিকম-সম্পর্কিত করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অলাভজনক অপারেটরের ওপর ন্যূনতম ২ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স প্রত্যাহার বা যুক্তিসংগত করার দাবি জানায় অ্যামটব। উচ্চ করপোরেট করের হারকে যৌক্তিক এবং সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত অপারেটরদের কর ২৫ ও ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা, মোবাইল সিমের ওপরে আরোপিত ২০০ টাকা কর বিলুপ্ত, প্রতি ১০০ টাকা টক-টাইমের ওপর ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে তারা।
অ্যামটব সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যথেষ্ট যৌক্তিকতা থাকার পরও টেলিযোগাযোগ খাতে যে পরিবর্তনসমূহ আমরা আশা করেছিলাম তার কোনোটিই দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে এ শিল্পটি দ্রুতগতিতে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে আরও কঠিন সময় অতিক্রম করবে, যা সার্বিকভাবে দেশের ডিজিটাইজেশনের গতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
