মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্ররা বাজেটে নেই

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ১১:২৯ পিএম

প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, ভোক্তা ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়াদের জায়গা হয়নি বলে মনে করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে বরাদ্দ রেখেছে, তা সরকারের স্বাভাবিক সময়ের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ।

করোনার এ সময় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে না পারাটা কলঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। ওই বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল রবিবার ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ : পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী আছে’ শীর্ষক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ব্রিফিংয়ে বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমসহ অন্যরা। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, করোনা  বিবেচনায় ২০২১-২২ অর্থবছর ভালো বাজেট হয়নি। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি তোলা হলেও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, নতুন দরিদ্র, ভোক্তা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এমনকি এলাকাসহ উপকূলীয় এলাকা ও চর এলাকার মানুষরা এ বাজেটে জায়গা পায়নি।

‘সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে পেনশন, ছাত্রবৃত্তি, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা হিসাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখানে বাজারে প্রায় ১৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পেনশন বাদ দিলে তা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ শতাংশ। সেই হিসেবে করোনাকাল বিবেচনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়নি। যতটুকু বেড়েছে তা পেনশন খাতে।’ বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথা উল্লেখ করলেও বাজেটে দ্বিতীয় ধাক্কার বিষয়টি মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি প্রথম ধাক্কার বিষয়ে কোনো তথ্য বাজেটে নেই। এই বাজেটে নতুন গরিব মানুষদের প্রত্যক্ষ অর্থ সাহায্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। তবে এই বাজেটে সামান্য হলেও অন্তর্ভুক্তির জায়গা বেড়েছে। কিন্তু ন্যায্যতার দিকে কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা দরকার ছিল। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকলেও করোনা মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত কোনো নির্দেশনা নেই।

মাথাপিছু আয় বাড়বে কিন্তু রাজস্ব বাড়বে না, তা কেমন করে হয়, প্রশ্ন তোলেন দেবপ্রিয়। আবার, মাথাপিছু আয়ের হিসাব হলে জিডিপির হিসাবও অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু সরকার শুধু মাথাপিছু আয়ের হিসাব দিচ্ছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব দিচ্ছে না। করোনাকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ উচিত হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেরা কর দেয় না। অন্যদের কাছ থেকেই আদায় করে। এই কর শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তাবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত