আর্থিক খাতে ভর করে আবারও ছয় হাজার পয়েন্টে সূচক

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ১১:৩৩ পিএম

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব-পরবর্তী দুদিনের অস্থিরতার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ফের ছয় হাজার পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। মূলত ব্যাংক, বীমাসহ পুরো আর্থিক খাতের শেয়ারের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে। পুঁজিবাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬০২৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। লেনদেন সামান্য কমলেও ২ হাজার কোটি টাকার ধারাবাহিকতায় রয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের দুদিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল লেনদেনের অস্থিরতা শুরুতেও ছিল। লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টায় অধিকাংশ ব্যাংকসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় ৩৮ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে বীমা খাতের উল্লম্ফনে পুরো আর্থিক খাতের শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাজারও হারানো মূল্যসূচক পুনরুদ্ধার করে ঊর্ধ্বগতিতে ফিরে আসে। দিনশেষে ইতিবাচক ধারা নিয়ে লেনদেন হয়।

গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও মূলত নেতৃত্বে ছিল বীমা খাত। সাধারণ বীমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। আগের দুদিনে যে পরিমাণ দর হারিয়েছিল, গতকাল এক দিনেই তা পুনরুদ্ধার করে সাধারণ বীমা খাত। গতকাল বীমা খাতের ৫০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সবগুলোর দর বেড়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বীমা কোম্পানির দর বেড়েছে সর্বোচ্চ। গতকাল সাধারণ বীমা খাতের দর গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর জীবন বীমা কোম্পানির বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ। বীমার শেয়ারে উল্লম্ফনের দিনে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের শেয়ারদরও দেড় শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সূচক বাড়াতে নেতৃত্বে ছিল পুরো আর্থিক খাত। পাশাপাশি বস্ত্র, বিবিধ ও ট্যানারি খাতের শেয়ারদরও বেড়েছে।

গতকাল ডিএসইতে ১৮১টি সিকিউরিটিজের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৪৫টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি সিকিউরিটিজের দর। ডিএসইতে গতকাল কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। শেয়ারদরে উল্লম্ফনের দিনে গতকালও লেনদেনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বীমা খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩১ শতাংশ এসেছে বীমা খাত থেকে। লেনদেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে বস্ত্র খাত, যেখানে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বেক্সিমকো লিমিটেডের কল্যাণে বিবিধ খাতেও একই পরিমাণের লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১০ ও ৮ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত