কভিড-১৯-এ রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ১১:০৪ পিএম

কভিড-১৯ জটিল রোগ। এই রোগে আক্রান্তদের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উপসর্গ থাকে না। আবার কখনো এটি টেনে নিয়ে যায় মৃত্যুর দরজায়। সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, শ্বাস-কষ্ট, অরুচি, ঘ্রাণ উবে যাওয়া এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হলেও এটি কখনো দেহের সব অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। কভিড-১৯-এর একটি জটিলতা হলো এটি শরীরের রক্তনালিতে বহমান রক্ত জমাট বাঁধিয়ে ফেলে। তখন ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ভয়ানক শ্বাসকষ্ট হয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি আটকে গেলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। মস্তিষ্কের রক্তনালি আটকে হতে পারে স্ট্রোক। এ ছাড়া অন্ত্রনালি, কিডনি, হাত-পা এসব অঙ্গের রক্তনালি আটকে বড় বিপত্তি সৃষ্টি হতে পারে। কেন করোনাভাইরাস রক্তনালি আটকে দেয় এ নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে প্রকৃত পুরো কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধারণা করা হয়, ভাইরাস-সৃষ্ট প্রদাহে ক্ষুদ্র রক্তনালি যাকে কৌশিক জালিকা বলে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা উদ্দীপ্ত হয় এবং এমন কিছু উপাদান তৈরি করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ইন্ধন জোগায়।

রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে কারও কারও ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষত যারা বয়স্ক, মোটাসোটা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি। ধূমপানের কারণে রক্তনালি এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ওপর করোনাভাইরাসের আক্রমণ হলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া আরও শানিত হতে পারে। এ ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়িসহ কিছু ওষুধ রক্ত জমাট বাঁধাকে উসকে দিতে পারে। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোথাও রক্ত জমাট বাঁধার যে নজির মিলেছে, সেখানেও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির যোগসূত্র রয়েছে বলে গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে।

প্রতিকার

রক্ত জমাট বাঁধা রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হলো নিজেকে সচল রাখা। দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। সেজন্য কভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও নিজেকে সচল রাখা জরুরি। হাসপাতালে বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়মিত শরীর নড়াচড়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।

 ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। স্থূলতা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকির সৃষ্টি করে।  ধূমপান বর্জন করা।

 চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রক্ত জমাট বাঁধায় সহায়তাকারী ওষুধ বন্ধ রাখা। বিশেষত জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ইত্যাদি।

 পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানিশূন্যতা রক্ত জমাট বাঁধার নিয়ামক।

 রক্ত পরীক্ষা করে ঝুঁঁকি নির্ণয় করা। রক্তে ডি-ডাইমার নামক উপাদান বেড়ে গেলে বুঝতে হবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া উদ্দীপ্ত হচ্ছে। এমনটি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রক্ত পাতলা করার জন্য (ব্লাডথিনার) ওষুধ শুরু করা দরকার।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলাও জরুরি। তা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করা, নিয়মিত হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত