ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমাগ্রাহকদের মেয়াদিদাবি, মৃত্যুদাবি ও অন্যান্য পাওনাদি বাবদ এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ না করা, বীমাগ্রাহকদের দেওয়া ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে জমা না দেওয়া, কোম্পানির অবসর ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগে কোম্পানিতে সম্প্রতি প্রশাসক নিয়োগ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ। এরপর বেরিয়ে এসেছে কোম্পানিটির নানা অনিয়ম।
ডেল্টা লাইফ সূত্র জানায়, তাদের শেষ আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্টে সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন, বীমা কোম্পানির লেনদেনে পাঁচ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থ ক্রসড চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার নিয়ম পালন না করা ও বীমা গ্রাহকদের তহবিল থেকে ৪৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ গত নভেম্বরে এই কোম্পানির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব নামঞ্জুর করে কোম্পানিকে জরিমানা করে এবং আরও অডিট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অডিট দলকে চরম অসহযোগিতা করলে বিধিবলে প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা নেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ। এরপরই বেরিয়ে আসে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০০৩ সাল থেকে আয়কর দেয়নি, আয়কর বিভাগের পত্রে ৩৩০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৫ টাকা বকেয়ার উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মূসক বাবদ ১৬ কোটি ২৪ লাখ ২৭ হাজার ৯০৫ টাকা এবং ২০১৩ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সুদ বাবদ ১৮ কেটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৮২৮ টাকা পরিশোধ না করায় মামলা করেছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কর্র্তৃপক্ষ।
তার আরও জানায়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বীমা আইন, ২০১০-এর ৭৬ ধারা ভঙ্গ করে সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ৪টি পরিচালকের পদ দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের পাশাপাশি কোম্পানির প্রকৃত দায়-দেনা কম দেখিয়ে, শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড প্রদান করে কোম্পানি ও পলিসি গ্রাহকগণের সমূহ ক্ষতি করা ও প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের অপচেষ্টায় ৯২ লাখ টাকা অস্বাভাবিক নগদ উত্তোলনের অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।
