নতুন দরিদ্রদের হিসাব আমি মানি না : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জুন ২০২১, ০১:৫৫ এএম

করোনা মহামারীতে কর্ম হারিয়ে দেশের কয়েক লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। বাধ্য হয়ে ফিরে এসে বেকার বসে আছেন প্রবাসীরাও। বেসরকারি একাধিক গবেষণা সংস্থার জরিপে নতুন দরিদ্রের এমন তথ্য এলেও সরকারি হিসাব না পাওয়া পর্যন্ত তা মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন দরিদ্রের এই হিসাব আমি স্বীকার করি না। যাদের কাছে তালিকা আছে ২ কোটি বা ১ কোটি বা ১০ জন, এই তথ্য তারা কোথায় পেয়েছেন, আগে তা জানা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এ কাজটি (দরিদ্রের হিসাব) করার জন্য সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) থেকে যত দিন তথ্য না পাওয়া যাবে, তত দিন অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য সরকার গ্রহণ করতে পারে না।’

এদিন অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি এবং ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে উত্থাপিত ১১টি প্রস্তাব পাস হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে আমাকে বলতে হবে বাজেটের কোন কোন জায়গায় আপনারা ব্যত্যয় দেখেছেন। পুরো তালিকা আমাকে দিতে হবে। সেগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে বিশ^ব্যাংকের মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (বিশ^ব্যাংক) সব সময় আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। আমরা চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ১ হবে বলে ধারণা করছি। তবে প্রবৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হতে পারে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে কোনো দুর্বলতা (উইকনেস) নেই। নিম্ন আয়ের মানুষ চিহ্নিত করে আমরা অর্থনীতির মূলধারায় আনতে পারলে আগামীতে অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হলে আমরা দেখব কারা উপকারভোগী। যাদের নিয়ে আপনাদের প্রশ্ন, তাদের কাভার করার জন্যই এবারের বাজেট সাজিয়েছি।’

ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে ১১ প্রস্তাব পাস : গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৬তম এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি এবং ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে সেগুলো পাস হয়।

ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ছয়টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি, জননিরাপত্তা বিভাগের একটি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব রয়েছে।

পরে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, ‘ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবের মোট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৮৯০ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ টাকা এবং এডিবি, এএফডি ও ইআইবি ঋণ ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭২ টাকা।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের জন্য একটি ‘ভেহিকেল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টর অ্যান্ড রিলেটেড সার্ভিস’ কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি জমা পড়ে, যার একটি গ্রহণ করা হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক তরু গ্রুপ লিমিটেডের স্থানীয় এজেন্ট স্মার্ট এসসিএম সলিউশন, ঢাকার ৬৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪০ টাকায় একটি ‘ভেহিকেল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টর অ্যান্ড রিলেটেড সার্ভিস’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালের ৪ মার্চ সিসিজিপি সভার অনুমোদনক্রমে ঢাকা ওয়াসার ডিইএসডব্লিউএস প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে চীনের কুনওয়া-ডিডিসি-এফসিইএ এবং বাংলাদেশের ভারনাকুলার কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে ১৯ কোটি ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৪০ টাকায় নিয়োগের চুক্তি করা হয়। প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ৩৬ মাসের পরিবর্তে ৭৫ মাস (৩০ জুন, ২০২১) পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২ কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৯৬৭ টাকার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত