চট্টগ্রামে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, তার ছেলে শারুন এবং হুইপ সামশুলের ভাই নবাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন আহমদকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা অভিযোগে গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদ’ বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল বিকেল ৩টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য নেতারা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় হুইপ সামশুল হকের পক্ষেও কিছু লোকজনকে জড়ো হতে দেখা যায়। পুলিশি বাধায় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে না পেরে বিকেল ৩টার পরপর বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা পাশের চেরাগী পাহাড় হয়ে ডিসি হিল পর্যন্ত সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে অবস্থান নিতে থাকেন। পরে চেরাগী পাহাড় মোড়ে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। এ সময় হুইপ সামশুল হক পরিবারের রোষানলের শিকার মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একসময়ে জাতীয় পার্টি করা সামশুল এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। পটিয়ায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছে হুইপ সামশুল ও তার ভাই নবাব এবং ছেলে শারুন। পটিয়ার বড় প্রকল্প থেকে ২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছে সামশুল। কেউ সেখানে কথা বলতে পারে না। কথায় কথায় মুক্তিযোদ্ধাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, অপমান করে। আমি হুইপ সামশুলের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ দাবি করছি।’
সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব বলেন, ‘সামশুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে যতদিন পতাকা কেড়ে নেওয়া হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। সামশুল হকের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। তার বাড়িতে আগে টিনশেড ঘর ছিল এখন সেখানে হয়েছে বিলাসবহুল বাংলো। সে যদি দুর্নীতি না করে তাহলে এত টাকা এলো কোত্থেকে? শুধু তাই নয়, খোঁজ নিলে জানা যাবে, দেশের বাইরেও তার বাড়ি রয়েছে। আমরা চাই তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তার আগে কী ছিল এখন কী আছে তা যেন খুঁজে বের করা হয়। আমাদের দাবি সামশুল হকের কাছ থেকে জাতীয় পতাকা ছিনিয়ে নেওয়া হোক। যে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে এ জাতীয় পতাকা, সেই পতাকা এই হীন ব্যক্তির কাছে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে। তা কোনোমতেই কাম্য নয়।’
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের মহাসচিব ও প্রয়াত জননেতা জহুর আহম্মদ চৌধুরীর ছেলে জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আলম, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা এমএ আজিজের সন্তান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, সাবেক ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানা, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ’ সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শওগত আনোয়ার খান, ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ’-এর মহাসচিব উত্তম কুমার বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আলম, অর্থ সম্পাদক সওকত মাসুম, দপ্তর সম্পাদক মো. মনজু, মো. নাসির খান, উজ্জ্বল চৌধুরী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ-চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি নওশাদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ-চট্টগ্রাম মহানগরের সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে চৈতী বসু এবং চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গোলাম রসুল নিশান। এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ-চট্টগ্রাম মহানগর ও থানা কমিটির অন্য নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
