আওয়ামী লীগের জন্মই তামাশা থেকে : ফখরুল

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ০১:৩৯ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র যদি তামাশা হয় তো আওয়ামী লীগের জন্মও সেই তামাশা থেকে। কারণ আপনারা তো বাকশাল করে আওয়ামী লীগকে নাই করে দিয়েছিলেন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল বহুদলীয় তামাশা।’ এক দিন পর গতকাল ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কেন তামাশা বলেন? জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র যদি তামাশা হয়, তাহলে আপনাদের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে। আপনারা তো বাকশাল করে নিজেদের নাই ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তখন আপনারা আওয়ামী লীগ হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। গণবাহিনী তৈরি করেছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেককে হত্যা করেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কালের চক্রে ওই হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের মন্ত্রী হয়ে সবচেয়ে বড় দালালে পরিণত হন। তিনি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নেতাকর্মীরা সেøাগান না দেওয়ায় তাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কোথায়? কথা বলেন না কেন? বলেন কোথায়? একজনও সেøাগান দিয়েছেন দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য? দেননি। আমি একটা সেøাগানও শুনিনি “দেশনেত্রীর মুক্তি চাই”। কার জন্য রাজনীতি করছেন? কেন রাজনীতি করছেন? যে নেত্রী তার সারাটা জীবন এ দেশের মানুষের জন্য দিয়েছেন। ৭১ সাল থেকে শুধু নির্যাতন আর নির্যাতন ভোগ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধদের মাধ্যমে পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন হয় তরুণ-যুবকদের হাত দিয়ে। বিখ্যাত একটি কথা আছে, “এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়”। এ কথাগুলো যদি মনে রাখতে না পারেন, তাহলে এ ভয়াবহ দানবের সঙ্গে কীভাবে যুদ্ধ করতে পারবেন। দানব কিন্তু ছোটখাটো দানব নয়, ভয়াবহ দানব-ফ্যাসিস্ট। পৃথিবীর কোনো দেশে ফ্যাসিস্টদের সরানো এত সহজে সম্ভব হয় না। এটা এরশাদ নয়, আইয়ুব খান নয় যে রাস্তায় আন্দোলন করবেন আর সরে যাবে। একটা শিক্ষিত সেনাবাহিনী ছাড়া কখনো যুদ্ধে জয় করা যায় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন আর সময় নেই। আগে নিজেদের তৈরি করতে হবে। শক্ত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে জনগণকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। দাবি একটাই। চলে যাও, চলে যাও। রেহাই দাও বাংলাদেশকে। কথা পরিষ্কার, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। তা না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ জানে কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে হয়।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত