করোনা পরিস্থিতিতেও সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্টট্র্যাক) প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে চললেও বাস্তবায়নের গতি কম। আলোচিত পদ্মা সেতুর কাজ ৯৩ শতাংশ শেষ, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। আর পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্প এখনো নকশা জটিলতায় ভুগছে।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও অদ্যাবধি নকশা জটিলতা কাটেনি। ত্রুটি সংশোধনে পদ্মা সেতুর তিনটি স্প্যানের নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো নকশা চূড়ান্ত করা হয়নি। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কম গতি মিরপুর সড়কে যাত্রী ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ফাস্টট্র্যাকভুক্ত অন্য মেগা প্রকল্পগুলোতেও সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি। অগ্রাধিকার বিবেচনায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দিতে ‘ফাস্টট্র্যাক’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগের (আইএমইডি) পক্ষ থেকে এসব প্রকল্পে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আইএমইডির সর্বশেষ এপ্রিল পর্যন্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বকে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে বিশ্বব্যাংকের টাকা ফেরত দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে বর্তমান সরকার। নানা চড়াই-উতরাই পার করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সেতুটি চলাচলের জন্য উদ্বোধন করার কথা ছিল। ইতিমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৯৩ শতাংশ, কিন্তু আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত মাসে এ মেয়াদ বৃদ্ধির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৯৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো দাঁড় করালেই কাজ শেষ হয়ে যায় না।’ এ ক্ষেত্রে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ঘরের অবকাঠামোগত অবয়বের কাজ শেষ হলেই বসবাসের উপযোগী হয় না। এজন্য ডেকোরেশন ও ইলেকট্রিকের কাজ করতে হয়। তেমনি পদ্মা সেতুকে চলাচলের উপযোগী করতে আরও দুই বছর বাড়তি সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। টেকনিক্যাল কিছু ব্যাপার আছে।’
পদ্মা সেতুর বুক চিরে চলে যাবে ট্রেন। সেজন্য আলাদাভাবে নেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প। গত এপ্রিল পর্যন্ত এর অগ্রগতি ৪২ শতাংশ। তবে অদ্যাবধি নকশা জটিলতা ভোগাচ্ছে প্রকল্পটিকে। ত্রুটি সংশোধনে তিনটি স্প্যানের নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আইএমইডি বলছে, এখনো নকশা চূড়ান্ত করা হয়নি। গত ১০ মে প্রকল্পটি পরিদর্শন শেষে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে নকশা চূড়ান্তকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রেলসংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) গোলাম ফখরুদ্দীন এ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পটি করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে এগিয়ে চলছে। ত্রুটি সংশোধনে পদ্মা সেতু কর্র্তৃপক্ষের চাহিদা অনুসারে নতুন স্প্যানের বিশদ নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এটি অনুমোদন পাবে। অন্যান্য সমস্যাও এখন আর নেই। কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’
আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্পের গতি করোনার কারণে কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু বেড়েছে ভোগান্তি। ৪২ শতাংশ সার্বিক অগ্রগতি মেট্রোরেল লাইন-৬-এ। কিন্তু সরকারের সংস্থা আইএমইডি বলছে, স্যুয়ারেজ লাইন ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মেট্রোরেলের পিডি আফতাব আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে চাননি।
ফাস্টট্র্যাকের তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রকল্পের অগ্রগতি কম হলেও পদ্মা সেতুর চিত্র ভিন্ন। এটি আরও আগেই উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে কাজের গতিতে বিঘœ ঘটে। তারপরও গত এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রকল্পের মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৯৩ শতাংশ। শিগগিরই বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত ১৯ মে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাহিমা আকতার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য পরিকল্পনা কমিশনকে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সেতু এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ অবকাঠামোর কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের পিডি বলছেন, সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন নাগাদ অপেক্ষা করতে হতে পারে।
২০০৯ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে পদ্মা সেতু প্রকল্প অনুমোদিত হয়। সে সময় প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। এরপর তিন দফা সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়। এখন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়ন থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আইএমইডির এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বিভিন্ন অঙ্গভিত্তিক কাজ নির্ধারিত সময়ে সমাপ্তির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিয়মিত ফলোআপ সভা করে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেতুর কারিগরি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ ব্যয়ের পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতিও সন্তোষজনক নয়। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু অদ্যাবধি ত্রুটিপূর্ণ নকশা সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। গত ১০ মে প্রকল্পটি পরিদর্শনে যান আইএমইডির উপপরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিয়া। পরিদর্শন প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, পদ্মা সেতু কর্র্তৃপক্ষের চাহিদা অনুসারে তিনটি স্প্যানের নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী পিয়ার ১৪-১৫-এর মধ্যে স্থাপিত নতুন স্প্যানের বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ দ্রুত শেষ করে স্প্যান নির্মাণকাজ সম্পন্নের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটির সভা তুলনামূলক কম হয়েছে। এসব সভা ডিপিপি অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতেও চীন ও দেশীয় শ্রমিকরা পূর্ণ সময় কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এখন মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতিটি সেগমেন্টে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রতি মাসে তার রিভিও করাও জরুরি।
অন্যান্য মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আইএমইডি সন্তুষ্ট নয়। আইএমইডি বলেছে, ফাস্টট্র্যাকভুক্ত জাতীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিশাল এসব প্রকল্পে যে ধরনের গতি থাকা প্রয়োজন কার্যত তা নেই। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে বাস্তবসম্মত সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা করার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প ২০১০ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে এটির কাজ ঝুলে যায়। এখন আবার এ প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে। তবে মেয়াদ আরও বাড়ানো লাগতে পারে। সংশোধিত মেয়াদ রয়েছে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। কারণ রোহিঙ্গা ও করোনার কারণে কাজের গতি অনেকটা কমে গিয়েছিল।’
ফাস্টট্র্যাকের আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলো হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ, মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। দেশের প্রথম পারমাণবিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অর্থের বিবেচনায় সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ৪১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সার্বিক কাজ এগিয়েছে মাত্র সাড়ে ৩৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি মনিটরিংয়ে আইএমইডি বলেছে, প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার জন্য জিওবি অংশের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এজন্য বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আরও কৌশলী ও তৎপর হওয়া প্রয়োজন। আবাসিক ভবনের অবশিষ্ট অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে হবে, যেন ভবন হস্তান্তর করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ ৪২ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয় ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এতে চীন সরকারের বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বাকি ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা সরকার নিজে জোগান দিচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর; কিন্তু ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের ব্যয় আরও ৪ হাজার ২৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
মেট্রোরেল প্রকল্প : মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০১২ সালের জুলাইয়ে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের জুনে। তবে প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না থাকায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালের বিজয় দিবসে দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প উদ্বোধনের সংশোধিত তারিখ নির্ধারণ কর হয়। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৪২ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রথম পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও অংশে পূর্তকাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত অংশের পূর্তকাজের অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৩০ শতাংশ। কারওয়ানবাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরিদর্শন প্রতিবেদনে আইএমইডি বলেছে, নির্ধারিত সময়ে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। কর্মপরিকল্পনা অনুসারে কাজ চলমান রাখতে হবে।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র : কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। জাপান সরকারের সহযোগিতায় এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। গেল এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৪২ শতাংশ। ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে জিওবি অংশে ২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য অংশে ১৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ শতভাগ শেষ হলেও পুনর্বাসন সম্পন্ন হয়েছে ৯৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র : বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে এর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প : ২০১০ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। সংশোধিত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে এপ্রিল পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৫৯ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল।
