পাবনায় গণপূর্ত ভবনে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে অস্ত্র দুটি জব্দ করে সদর থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আলোচিত ওই ঘটনায় পাবনা গণপূর্ত ভবনে কর্মরতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সরকারি এ দপ্তরটির পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি। পাবনা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হাজি ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এআর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে যান। তারা বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। আওয়ামী লীগ নেতারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান এবং কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান। এ ঘটনায় গণপূর্ত ভবনে কর্মরতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও থানা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। বিশেষ করে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ ঠিকাদার ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করল।
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৬ জুন দুপুরে পাবনা সদর উপজেলা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ ফারুক হোসেন ওরফে হাজি ফারুক, পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এআর খান মামুন ও পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ফিল্মি স্টাইলে শহরের ছাতিয়ানীতে অবস্থিত পাবনা গণপূর্ত অফিসে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মামুন ও লালুর শটগান ছিল। বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের অস্ত্র দুটি জব্দ করার পাশাপাশি পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।’
তবে পাবনা সদর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই থানায় এসে তাদের শটগান দুটি জমা দিয়েছেন। শনিবার রাতে তারা নিজেরাই সদর থানায় উপস্থিত হয়ে অস্ত্র দুটি জমা দেন। ব্যক্তিগত কাজে জেলার বাইরে থাকবেন বলে অস্ত্র দুটি জমা দিয়েছেন বলে থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন তারা।
তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রতিকার বা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়নি।’
এদিকে গণপূর্ত ভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়ার বিষয়টি গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে নিন্দার ঝড়। তবে শোডাউন নয়, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র ও গুলি বহন করছিলেন বলে দাবি ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের। এ ঘটনায় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা বিব্রত হলেও সংগঠনের অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকায় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়। ঠিকাদার নেতাদের বিরুদ্ধে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা আমার কাছেও কোনো অভিযোগ করেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
