বিগত বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হলেও করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভাটা পড়ে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এই খাতের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্থবছরে বাকি সময়ে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে চলতি জুন মাসে অন্তত ৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। তবে গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক ঋণ বিতরণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ২ হাজার কোটির টাকার মতো কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এমন ঘাটতি দেখা দেয়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার ৯৪ শতাংশ।
তবে গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও চলতি অর্থবছরের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ গত মে মাসে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৫৯৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করে; যা এর আগের মাসে বিতরণ করা কৃষিঋণের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। গত এপ্রিলে ১ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। তথ্য ঘেঁটে আরও দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ হয় ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এ খাতের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কৃষি খাতে ২১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণের দায়িত্বে থাকা সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে প্রতি বছরই কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হতে দেখেছি। এর আগেও প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার বেশিও বিতরণ হতো। তবে এর আগে এভাবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণের তথ্য সংরক্ষণ করা হতো না।’ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারি ব্যাংকগুলো ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ হিসেবে বিতরণ করে; যা এ খাতের ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ১২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে; যা এ খাতের ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রার ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
