বদলি ও অস্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা, বন্ধ সব পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুর দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে শ্রমিকদের দুটি সংগঠন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিন। প্রশ্নোত্তর দেন বদলি-অস্থায়ী খুলনা যশোর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হামজা গাজী।
তিন দফা দাবি হলো, বদলি ও অস্থায়ী যে দুই নাম সংক্রান্ত জটিলতায় ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে; ২০১৮ সালের সাপ্তাহিক পাওয়া ও মিল বন্ধের নোটিস পে-মজুরি দ্রুত পরিশোধ করতে হবে; ব্যবসায়ীদের স্বার্থে লিজ নয়, দেশের স্বার্থে বন্ধ সব পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালু করে আধুনিকায়ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এ দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৪ জুন জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি, ৩০ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ঢাকা থেকেই আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্থায়ী শ্রমিকদের বাইরে ২১টি পাটকলেই আছে ২৬ হাজার বদলি শ্রমিক। অথচ এই সব শ্রমিক আজও বুঝে পাননি তাদের বকেয়া টাকা। কবে নাগাদ তারা টাকা হাতে পাবেন, তারও কোনো হদিস নেই। অথচ তাদের শ্রমে-ঘামে অর্জিত এ টাকা সরকারের ঘরে রেখে এই করোনার মধ্যে এক অসহায় জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। গত এক বছরে বদলি শ্রমিকরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। অধিকাংশ বেকার, যারা বাসা ভাড়া জোগাড় করতে পারছেন না, না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত। পারছে না অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে। চরম এক হতাশায় এই শ্রমিকরা আজ দিশেহারা। শুনতে পাওয়া যায়, ইতিমধ্যে কোনো কোনো নারী শ্রমিক পেটের দায়ে রাতের আঁধারে শরীর বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল খুলনার সভাপতি হুমায়ন কবির, লেখক শিবির খুলনার সাধারণ সম্পাদক বরকত আলী, স্টার জুট মিলের শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন, বদলি-অস্থায়ী খুলনা যশোর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সদস্য নিয়াজ মোরশেদ দোলন প্রমুখ।
