মুজিববর্ষ উপলক্ষে আরও সাড়ে ৫৩ হাজার পরিবার নতুন ঘর পাচ্ছে। ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষরা উপহার হিসেবে এই ঘর পাবেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সরকারের পক্ষ থেকে ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হবে। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। করোনার টিকা কেনার জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’ হিসেবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে এরই মধ্যে ২ শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছে সারা দেশের ভূমি ও গৃহহীন প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। কায়কাউস বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হয়েছেন। অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ বলা যায়। বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি। একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। সরকার অসহায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণও দেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এলে সেখানে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনবার্সন প্রকল্প খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১৯টি বহুতল ভবনে ৬০০টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে একটি করে ফ্ল্যাট প্রদান করেন। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ করে আরও ৩ হাজার ৮০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দেশে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রকল্প নেওয়া হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬২টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে ‘মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়। এ লক্ষ্যে গত বছর জুনে সারা দেশে দুই শ্রেণিতে ভূমি ও গৃহহীন পরিবার ও যাদের ১ থেকে ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই বা জরাজীর্ণ ঘর রয়েছে এমন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয় তাদের জীবন বদলের উদ্যোগ।
টিকার জন্য বরাদ্দ ১৪ হাজার কোটি টাকা : কায়কাউস বলেন, ‘বাজেটে করোনাভাইরাসের টিকা কেনার জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জুলাই মাস থেকে আমরা হয়তো আবার মার্চ স্কেলে টিকাদান শুরু করতে পারব। টিকা পেতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটা দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত আমরা টিকা পাব। ভ্যাকসিন পেতে আমরা প্রতিদিনই অন্ততপক্ষে একটা দেশ বা কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলছেন “আমাদের ফ্রি দরকার নেই, আমরা ভ্যাকসিন টাকা দিয়ে কিনব।” যেখানে পাওয়া যায়, সেখান থেকে কেনা হবে এবং আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’
টিকার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভ্যাকসিন মার্কেটটা সেলারস মার্কেট, কেউ কিন্তু বিক্রি করছে না। আমরা পৃথিবীর সব জায়গায় চেষ্টা করেছি প্রথম দিন থেকে, তখন আমাদের কাছে যে অপশনটা ছিল, সেটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এখন পর্যন্ত আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারবেন কম দামে আমরা টিকা পেয়েছি। এখন একটা কথা হচ্ছে যে আমরা সোর্স করিনি কেন? আপনাদের কীভাবে বোঝাব আমরা সোর্সিংয়ের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতিনিয়ত আমাদের রাষ্ট্রদূতরা যোগাযোগ করে চলেছেন।’
