প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানই ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম উপায়। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি আমদানি এবং উৎপাদনে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জ্বালানি উৎসের ভবিষ্যৎ : এলপিজি এবং এলএনজি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা। ওয়েবিনারে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, গত পাঁচ দশকে শিল্প খাতের গতি চলমান রাখতে প্রাকৃতিক গ্যাস অন্যতম জ্বালানি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে জ্বালানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে প্রায়ই শিল্প খাতে জ্বালানির সংকট দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিল্প খাতের চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই। শিল্প খাতে চাহিদামাফিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি আমদানি, উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২ শতাংশ এলপিজির মাধ্যমে মেটানো হয়। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এলএনজির চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি দ্রুত এলপিজি ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জকিগঞ্জে সর্বশেষ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। ইতিমধ্যে এলপিজি খাতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব হতে প্রয়োজন হলে নীতিমালা ও আইন সংস্কার করা হবে। এলপিজি অপারেটরদের অনুমোদনের জন্য ১৮ ধরনের লাইসেন্স দরকার। বার্ষিক নবায়ন ফি দিতে হয় ১ কোটির বেশি, যা কমানো প্রয়োজন, উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমাদের গ্যাসের রিজার্ভ ৬ টিসিএফ এবং সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে যে ধরনের কার্যক্রম নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করা যায়নি।
তিনি জানান, বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসের ৭৪ শতাংশ আসে নিজস্ব খাত থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন হবে ১৬ দশমিক ৫ এবং আমদানি খাত থেকে আসবে ৮৩ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে শিল্প খাতসহ সব খাতে ব্যয় বাড়বে। এমন বাস্তবতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। মূল প্রবন্ধে পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির সাবেক পরিচালক (অপারেশন) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার সালেক সুফী বলেন, দেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি এলপিজি ও এলএনজি। শিল্প খাতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
অধ্যাপক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে আসবে। যেখানে বাংলাদেশে ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাত থেকে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
