ইতিহাসের ছাত্র বলেই হয়তো একটি ভয়ংকর আশঙ্কা আমাকে কেবল তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। প্রজন্ম কী দেখবে ইতিহাসের খেরোখাতায় চোখ বুলিয়ে! দুই প্রজন্ম পরে যখন আগামীর ইতিহাসবিদ লিখবেন তখন রাজনীতির কলঙ্কগাথা কতটা কালিমালিপ্ত করবে ইতিহাসের পাতাকে! ইতিহাস তো কল্পকথা নয় অথবা রাজনৈতিক দলের ল্যারেটরিতে মিথ্যাচারের আরকে তৈরি গল্পকথাও নয়। দুই প্রজন্ম পর ইতিহাসের নায়ক বা খলনায়ক নায়িকাদের অনেকেই তখন নশ্বর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে স্বর্গ নরক গুলজার করবেন। এ-সময় দলতন্ত্রের আবেগ আর মতলববাজির ঊর্ধ্বে থেকে ইতিহাস লেখার বিজ্ঞানমনস্ক পদ্ধতি মেনে একুশ শতকের বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে বসবেন প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের ইতিহাসবিদ। তার কাছে থাকবে আকর সূত্র আর দ্বিতীয় পর্যায়ের তথ্য উপাদান। ইতিহাসবিদের কলমে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এক কলঙ্কিত ইতিহাস বেরিয়ে আসবে। এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতানেত্রীরা নিজেদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতিদিন সহস্র মিথ্যাচার করেন আর একে একে গণস্বার্থবিরোধী কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থেকে কীভাবে দেশের মানুষকে প্রতারিত করতেন ইতিহাস গ্রন্থে এর এক মহাভারত রচিত হবে। ইতিহাসবিদ মূল্যায়ন করবেন এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারিত দলীয় আদর্শ ছিল চরম ভাঁওতাবাজি। এরা সব একই বৃত্তে ঘোরা মানুষ। ক্ষমতার সুধারসের মোহে সবাই চক্ষুলজ্জাহীন প্রগলভ। দলীয়, পারিবারিক আর ব্যক্তিস্বার্থে প্রতিদিন এক পক্ষ জনগণের কলজে খুবলে নেয় আর অন্যপক্ষ গুর্দা টানাটানি করে। আবার পরক্ষণেই জনগণের নাম ভাঙিয়ে বাণিজ্য করে বক্তৃতার মঞ্চে, মিডিয়ার ক্যামেরায়। দীর্ঘদিন নষ্ট রাজনীতির বলয়বন্দি থাকায় সংগ্রামী ঐতিহ্যের ভেতর থেকে বেড়ে ওঠা এদেশের মানুষের একটি বড় অংশকেই নির্জীব করে ফেলেছে কলঙ্কিত রাজনীতির নিপুণ কারিগররা। অসহায় মানুষ ছটফট করে কিন্তু যূথবদ্ধ প্রতিবাদ করতে পারে না।
মুক্ত গবেষণার ফলাফল থেকে ইতিহাসবিদ ঠিকই লিখবেন ক্ষমতার রাজনীতি আঁকড়ে থাকা অসৎ মানুষগুলো নিজেদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য দেশের মানুষের বড় অংশকে ত্রিধাবিভক্ত করেছিলেন। এক অংশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঐতিহ্যের যাত্রী হয়েও আদর্শচ্যুত রাজনীতিকদের ঈন্দ্রজালে আটকে পড়ে মোহাবিষ্ট হয়ে যান। অন্যদল ভুঁইফোড় কপট রাজনীতিকদের ফাঁদে পা দিয়ে বুঝে না বুঝে হয়ে যান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী। আর ছোট্ট অংশটি ধর্মবণিকদের ছলনা ও অন্ধ আবেগে বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের বিবেকের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। দেশের এই ত্রিধারা মানুষকে এতটা দলান্ধ করে ফেলেছিল যে, দল-সমর্থকরা বিবেক তাড়িত না হয়ে স্বার্থপর নেতানেত্রীদের ইচ্ছে পূরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়ে যান। অথচ বাংলাদেশের এই বিভ্রান্ত মানুষের পূর্বসূরিরা যথাসময়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পেরেছিলেন। তারা খ্রিস্টপূর্ব যুগে রুখে দিয়েছিলেন বিদেশি আর্যশক্তির অনুপ্রবেশ। পাল যুগে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সেন রাজাদের অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে বহিরাগত মুসলমান শক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। মুসলমান সুলতানরা মুগ্ধ হয়েছিলেন এদেশবাসীর অমিত তেজ আর সৃজনশীলতায়। এদেশের সম্পদ তাদের নির্লোভ আকর্ষণ করেছিল। তাই কর্মভূমিকায় তারা বাঙালি হতে পেরেছিলেন। দিল্লির সিংহাসনে বসা স্বদেশি মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাঙালিকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন সুলতানরা। আবার এই বাঙালিই মোগল আধিপত্যবাদ ঠেকাতে একাট্টা হয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির গড়া প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য। পাকিস্তান আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া বাঙালি শাসকদের অন্যায় শাসনের সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্তে প্রতিবাদী হতে দ্বিধা করেননি। ভাষা আন্দোলন সক্রিয় করতে গড়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন। সংস্কৃতিকর্মী আর ছাত্ররা নির্লোভ দেশপ্রেমিক বিপ্লবী হিসেবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। পরবর্তী অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সংস্কৃতিকর্মী ও ছাত্ররা নির্লোভ দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ান।
অমন একটি পটভূমি টেনে এবারে ইতিহাসবিদ লিখবেন একুশ শতকের বাংলাদেশের স্বার্থপর রাজনীতিকরা সাফল্যের সঙ্গে বিপ্লবী বাঙালির মুক্তচিন্তার সুকুমারবৃত্তিকে নানা ধরনের লাভ লোভের মোহ আর প্রতিহিংসার জীবাণু ছড়িয়ে হত্যা করেছিল। এ কারণে বিপ্লবী বাঙালির উত্তরসূরিরা দেশপ্রেমের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ থেকে ছিটকে পড়তে থাকে। তারা এদেশের সংস্কৃতিকর্মী আর উজ্জ্বল ঐতিহ্য নির্মাণকারী ছাত্রদের লোভী ও অমানবিক করে তোলে। তারা অবিভাজ্য বাঙালির মুক্তি নিয়ে আর ভাবতে চায় না। সুবিধাবাদী স্বার্থপর রাজনৈতিক গুরুদের নির্দেশনায় কেউ হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদী সেøাগানের তল্পিবাহক, কেউ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আবার কেউ সাম্প্রদায়িক শক্তির সিপাহসালার। আগামীর ইতিহাসবিদ লিখবেন এদেশের দেশপ্রেমহীন স্বার্থপর রাজনীতিকরা নিজ দলীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দেশের আইন ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছিলেন। যে দল যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে তারাই আইনের শাসনের শিরেদ করেছে। আর সবই করেছে নির্লজ্জভাবে জনগণের নাম ভাঙিয়ে। ইতিহাসবিদ বলবেন এতটাই নোংরা হয়ে গিয়েছিল এদেশের রাজনীতি যে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য যার যার দলের মরহুম নেতাদের অপব্যবহারে লাঞ্ছিত করতেও তাদের দ্বিধাবোধ হতো না। তিনি লিখবেন রাজনৈতিক ঘোলাটে পরিবেশের সুযোগে বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি করে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেয় বিএনপি নামের একটি দল। নিজেদের আদর্শ আর উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মৌলবাদী দলকে দোসর বানিয়ে নেয়। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজ দলের জন্মদাতাকে ইতিহাস বিকৃতির হাতিয়ার বানায়। দলীয় সভানেত্রী অবলীলায় অসংকোচে অমানবিক রুচির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজ জন্মতারিখে পাঁচ রকম রূপান্তর করতে দ্বিধা করেননি। দুই প্রজন্ম পরের পাঠক যাতে বিস্ময়ের ঘোরে ইতিহাসবিদের কথাকে অবিশ্বাস না করেন তাই প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপনে ইতিহাসবিদের কোনো সংকট হবে না। একুশ শতকের শেষপর্বের মানুষকে বিস্মিত করে ইতিহাসবিদ বলবেন এই দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন বানিয়েছে। বানিয়েছে লাখ লাখ ভুয়া ভোটারের তালিকা। বিএনপি নেত্রী দলটিকে পারিবারিক দলে পরিণত করেছেন। আর ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট পাওয়ার জন্য নানা ঘাটের পানি খাওয়া নেতারা নেত্রীর কৃপালাভের জন্য অতিশয় বিশ্বস্ত তালেবে এলেম হয়ে গিয়েছিলেন। নেত্রীর ইচ্ছেকে তথাস্তু বলে দল ও ক্ষমতার মসনদে গদিনশীন করার জন্য একসময় দলের প্রায় নাবালক নেত্রী-পুত্রকে সবার ঘাড় ডিঙিয়ে বড় নেতা বানিয়ে দিয়েছিলেন। এই নতুন নেতার নেতৃত্বে একদা হওয়া ভবন নামে একটি দুর্নীতির প্রতীকী ভবন তৈরি হয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের মুখে মুখে এই ভবনের কথা চাউর হয়ে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে। নেত্রীর কনিষ্ঠ পুত্রও রাতারাতি প্রকা- বণিক হয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার সুবাতাস গায়ে মেখে হয়ে গিয়েছিলেন শত-কোটি টাকার মালিক। স্বয়ং প্রধান নেত্রী নিজেও অবস্থার ফেরে পরে লাখ লাখ কালো টাকা পুঁটলি থেকে বের করতে বাধ্য হন। এরপর ইতিহাসবিদ পাঠককে বিস্মিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রামাণ্যভাবেই বলবেন এদেশের শিক্ষিত মানুষ বুদ্ধিজীবীর একাংশও দলীয় তকমা এঁটে বিবেক বর্জিত হয়ে যেতেন নেত্রীর কৃপালাভের জন্য। দলীয় সাংবাদিক, দলীয় শিক্ষক, দলীয় আইনজীবী অন্যায়কে অন্যায় বলতে ভুলে যেতেন। ক্ষুদ্রস্বার্থে পঙ্কে ডুবতেও কোনো দ্বিধা হতো না তাদের। প্রতিদিন গণতন্ত্র পদতলে মাড়িয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণদুর্ভোগ বাড়াতেন।
ইতিহাসবিদ লিখবেন আওয়ামী লীগ নামের দলটি ছিল বিএনপির সাক্ষাৎ প্রতিপক্ষ। এই দলটির গৌরবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। পাকিস্তান শাসনামলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল দলটি। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলীয় গন্ডি ছেড়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এই মহান নেতা এবং জাতীয় চারনেতা নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শূন্যতা যেন আর পূর্ণ হলো না অনেককাল। তাই বঙ্গবন্ধুর মতো ক্ষণজন্মা নেতা লাঞ্ছিত হতে থাকলেন তার রেখে যাওয়া দলের অপরিণামদর্শী নেতৃত্বের হাতে। এক অসম প্রতিযোগিতায় বিএনপির জিয়াউর রহমানের পাশে এনে বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করার পথ তৈরি করে দিলেন। যে নেতার নাম বিশ্বময়, বাঙালির হৃদয়েতার এখানে ওখানে নামকরণ করার প্রতিযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে খাটো করে দিলেন। গণতন্ত্রের কথা বললেও গণমানুষের অধিকার এই দলের কাছেও প্রাধান্য পেল না। দলতন্ত্রের ঘেরাটোপেই আটকে রইল। দুই মেরুর রাজনীতি থেকে বেড়ে উঠলেও আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার অভাবে দুই দলই অভিন্ন বৃত্তে ঘুরপাক খেতে লাগল। বৃত্তের কাছাকাছি থাকায় দুই দলই সম্ভবত নিজেদের চিনতে পেরেছিল। তাই উভয়েই পরস্পরকে অবিশ্বাস করতে লাগল। আপন আচরি কর্মেই সম্ভবত দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না বলে দুই দলের বিশ্বাস প্রবল হলো। তাই অগণতান্ত্রিক হলেও আওয়ামী লীগের আন্দোলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে দলীয় রাজনীতির অসততাকে স্পষ্ট করল। বিএনপি প্রবল আপত্তি জানায় এই নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবে। দেশবাসী ততক্ষণে বুঝে নিয়েছে এ আপত্তি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নয়নির্বাচনে পরাস্ত হওয়ার ভয়ে। বৃত্তঘুরে আবার যখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন আবার বিএনপির অগণতান্ত্রিক সংসদ বর্জনের রাজনীতির সুযোগে আর নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা কিছুমাত্র লজ্জিত না হয়ে বলেন তারা জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আগে জনগণের ক্ষমতা আওয়ামী লীগই কি কেড়ে নিয়েছিল? আবার অন্যদিকে একদা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতেই জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছিল একের পর এক হরতালের খড়গ। তবে ২১ শতকের শেষে এসে দৃঢ়ভাবে সরকার পরিচালনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। বিস্ময়কর উন্নতি ঘটিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত দিকের। তবে অগণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্ধকার থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারেননি।
এসব রাজনৈতিক মালিন্য ইতিহাস ধারণ করে পূর্বপুরুষদের গড়া উজ্জ্বল ঐতিহ্য অন্ধকার চাদরে ঢেকে ফেলবে। তবে আমরা আশা করব অতঃপর ইতিহাসবিদ আরও দুটো পৃষ্ঠা সংযোজন করবেন। লিখবেন‘একদিন অন্ধকার কাটে বাংলাদেশের। অসৎ রাজনীতিকদের ঈন্দ্রজাল ভেদ করে বেরিয়ে আসে মানুষ। ছাত্র শিক্ষক বুদ্ধিজীবী সবার মোহমুক্তি ঘটে। দলীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করেন। গণতন্ত্র রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ হন। অন্যায়কারী ও দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বর্জন করেন। গণজোয়ারে নষ্ট রাজনীতির অচলায়তন ভেঙে পড়ে। রাজনীতিকদের এবার বোধোদয় ঘটে। দেশপ্রেমের নতুন শক্তিতে আলোকিত পথে হাঁটার জন্য পা বাড়ান।’
লেখক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
