সেনাবাহিনীকে টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট প্রদান

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ০১:৪৯ এএম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট/মিসাইল সিস্টেম (টাইগার এমএলআরএস) প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে সাভার সেনানিবাসস্থ মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি ইউনিটকে অন্তর্ভুক্তিকরণ সনদ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতার হাত ধরেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন শুরু হয়। তার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা নীতি ১৯৭৪’-এর ভিত্তিতে বর্তমান সরকার নুতন করে ‘প্রতিরক্ষা নীতি ২০১৮’ এবং ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ প্রণয়ন করে যার বাস্তবায়নে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ গঠন ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে তিনি করোনাযুদ্ধ মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সম্মুখযোদ্ধাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রিয় মাতৃভূমির অখন্ডতা রক্ষায় এবং জাতির যে-কোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন পদবির সেনাসদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা উদ্বোধন : সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ নবগঠিত জাজিরা সেনানিবাসে ২০টি স্থাপনাসহ ঢাকা, বগুড়া, যশোর ও রংপুর সেনানিবাসে অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৪টি বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টারের  (সেনানীড়) উদ্বোধন করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে সাভার সেনানিবাস থেকে ভিডিও টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনীর সকল পদবির সদস্যদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সেই সঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের সার্বিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। যে কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে দেশের মানুষের আস্থা অর্জনসহ আন্তর্জাতিক পরিম-লেও সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’ এসময় তিনি উদ্বোধনকৃত স্থাপনাসমূহের নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট এরিয়া কমান্ডারগণসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণসহ সকল পদবির সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার উদ্বোধনকৃত স্থাপনাসমূহের ফলে জাজিরা সেনানিবাসে ৭টি ইউনিটের অফিস ভবন, সৈনিক ব্যারাক এবং ভারী সমরাস্ত্রের গ্যারেজসহ অফিসার ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারদের আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলো। এছাড়াও ঢাকা, বগুড়া, যশোর ও রংপুর সেনানিবাসে অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারসংক্রান্ত সমস্যা বহুলাংশে নিরসন হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত