করোনা টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে আসা ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে দেশে। গতকাল সোমবার রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে ২৪০ জনকে পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এসব টিকাগ্রহীতাকে আগামী ৭-১০ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা দেখা হবে। সব ঠিক থাকলে এরপর থেকে এই টিকার গণপ্রয়োগ শুরু হবে। তবে সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার কারণে এই টিকা শুধু ঢাকার নিবন্ধিত মানুষ পাবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) টিকা নিয়েছেন ৮৪ জন, এর মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ ও ৩৯ জন নারী। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন ৭৮ জন। এর মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী। সমসংখ্যক ৭৮ জন টিকা নিয়েছেন শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। এখানে টিকাগ্রহীতাদের ৪৪ জন পুরুষ ও ৩৪ জন নারী।
গতকাল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে টিকাদান পরিদর্শন করতে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরে আরও বেশি মানুষের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ফাইজারের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া টিকার মিশ্রণ ঠিকমতো করাও বড় ব্যাপার। এ কারণে এই টিকা দেওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকমতো চলছে। টিকা দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা সেভাবেই কাজ করছেন। যারা টিকা নিয়েছেন তারাও কোনো সমস্যার কথা জানাননি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোঝার মতো সময় এখনো হয়নি। তারপরও যেহেতু এই টিকা আমরা প্রথম দিচ্ছি সে কারণে যেসব হাসপাতালে আইসিইউ আছে, স্পেশাল কেয়ার নেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করেছি।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, এখন পর্যন্ত ফাইজারের টিকার জন্য কোনো অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হয়নি। তবে যারা বিদেশগামী তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তৃতীয় টিকা হিসেবে ফাইজার প্রয়োগ করা হচ্ছে। দেশে তৃতীয় টিকার চালান হিসেবে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজের চালান এসে পৌঁছায় গত ৩১ মে।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে কভিডের টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান শুরু হয়। সংকট থাকায় বর্তমানে এই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। গতকাল দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩ হাজার তিনজন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৯২৭ জন ও নারী ১ হাজার ৭৬ জন।
দ্বিতীয় টিকা হিসেবে দেশে দেওয়া হচ্ছে চীনের সিনোফার্মের টিকা। ২৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতাকে দিয়ে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। গত শনিবার থেকে দেশের ৬৭টি কেন্দ্রে সিনোফার্মের টিকার গণপ্রয়োগ শুরু হয়েছে। গতকাল এই টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৭৬৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ৩ হাজার ২৩১ জন ও পুরুষ ২ হাজার ৫৩৬ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এই টিকা নিলেন ১৬ হাজার ৩৪৩ জন।
