বড় বোন ও মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়ার সঙ্গে মোসারাত জাহান মুনিয়ার সম্পর্কের ৫টি দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার লাশ উদ্ধার হওয়ার পর গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেন নুসরাত। তদন্তে দেখা গেছে, নানা বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিরোধ সৃষ্টি হয় নুসরাত ও মুনিয়ার মধ্যে। মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে এ বিষয়গুলোর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একাধিক তদন্তকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মা-বাবার মৃত্যুর পর বড় বোন নুসরাত পরিবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেন মুনিয়াকে। আপন ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে সম্পত্তির মামলা দিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে মুনিয়াকে পুরোপুরি কবজায় নেন নুসরাত। পরে কৌশলে মুনিয়াকে মেশিনে পরিণত করেন নুসরাত।
সূত্র বলছে, নুসরাতের মাধ্যমে শারুনের সঙ্গে মুনিয়ার পরিচয় হলেও একসময় হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন মুনিয়া। শারুন স্ত্রী সাইফা রহমান মীমকে তালাক দিয়ে মুনিয়াকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখান। মুনিয়াও চেয়েছিলেন শারুনকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে। বিভিন্ন সময় শারুনের নাম উল্লেখ না করে এসব লেখেন মুনিয়ার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে। কিন্তু শারুনের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। এমনকি নুসরাত নিজেও চাননি মুনিয়া শারুনকে বিয়ে করুন। এতে তার অর্থ উপাজর্নের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ নিয়ে শারুন-নুসরাত বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
মুনিয়া যখনই নুসরাতের কথার অবাধ্য হতেন, তখনই মুনিয়াকে ব্ল্যাকমেল শুরু করেন নুসরাত। নুসরাত বিভিন্ন সময় মুনিয়ার বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ছবি তুলে রাখেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতেন নুসরাত। এতে হতাশা সৃষ্টি হয় মুনিয়ার মধ্যে।
মুনিয়ার টাকার হিসাব থাকত নুসরাতের কাছে। এ নিয়ে গুলশানের ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রীর কাছে নুসরাত অভিযোগ করেন, মুনিয়া তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধে জড়ান নুসরাত। এ সময় কৌশলে তিনি মুনিয়াকে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলেন। সবুজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শুরুতে মুনিয়া ছিলেন নুসরাতের পক্ষে। কিন্তু ধীরে ধীরে নুসরাতের মানসিকতার বিষয়টি বুঝতে পারেন মুনিয়া। মুনিয়া ভাইবোনের মধ্যে সমঝোতা করতে সবুজের দিকে ঝুঁকতেই নুসরাত ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন। এই ক্ষোভ থেকে মুনিয়ার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন নুসরাত।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য নুসরাত দায় এড়াতে পারেন না।
গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। এর কয়েক দিন পর মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ আদালতে আরও একটি হত্যা মামলা করেন।
