ভারতে ডেলটার পর ডেলটা প্লাস নামে করোনার নতুন একটি ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেটি আরও ৮ দেশে শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানের ‘ডেলটা’ ধরনটি দুর্বল হয়ে ‘ডেলটা প্লাস’ সবল হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে করোনার নতুন এই ধরন। ভারত সরকারও ইতিমধ্যে করোনার এ ধরনকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে করোনার এ ধরন যে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে, তার পক্ষে এ মুহূর্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে যেতে পারে। আর অ্যান্টিবডি ও টিকার সুরক্ষাকে পাশ কাটাতে পারে ভাইরাসের নতুন এই ধরন।
ভারতীয় চিকিৎসক এ ফাতাহুদ্দিন বলেন, করোনার বিদ্যমান ধরনের বিরুদ্ধে টিকা কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান টিকা কাজ করবে কিনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সম্প্রতি একাধিক সমীক্ষায়ও দেখা গেছে করোনাভাইরাসের ভারতীয় প্রতিরূপ বা নয়া ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে একাধিক ভ্যাকসিন। কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিনের সুরক্ষা বলয়ও ভেদ করেছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। তাই প্লাস এর চাইতে বেশি সংক্রামক হতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত। তবে আসলেই কী হতে পারে তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
অনেকে আবার আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন। ভারত সরকারের জিনোমিক সার্ভিলেন্স প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এখনই ভারতীয়দের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
গতকাল দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত ডেলটা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ অণ.১ ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ৪০ জনের দেহে পাওয়া গেছে। প্রথম এই ভ্যারিয়েন্ট মহারাষ্ট্রে পাওয়া গিয়েছিল। দেশের করোনাভাইরাসের চারিত্রিক পরিবর্তনের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য কেন্দ্রের তরফে ওঘঝঅঈঙএ নামক নিয়ামক সংস্থাটি গঠন করা হয়, যার সব ল্যাবের ওপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই সংস্থার উদ্যোগে ভাইরাসের জিনক্রোম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ডেলটা প্লাসের জন্যই কভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে এই ধরনের কোনো তথ্য নেই। শুধু তাই নয়, এই ভাইরাসের জেরে করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে তারও কোনো প্রমাণ নেই।
