চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শাখের ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে মো. আজিম হোসেন শাহাদাত (২০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে মিরসরাই পৌরসভার হোপ মা ও শিশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
আজিম ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাসানগনিপুর এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে রাজু ও তার তিন সহযোগীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞান ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজু মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মিরসরাই পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আব্দুল বাতেন জানান, আজিম তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান। দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে তিনি মিরসরাইয়ে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা রাজুর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। কয়েক দিন আগে রাজু তাকে ডেকে নিয়ে আজিমের বিরুদ্ধে তার নাম ভাঙিয়ে মিরসরাই স্টেডিয়ামের পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। এ সময় ছেলেকে শাসন করার জন্য বাবাকে বলেন রাজু। এর মধ্যে কয়েক দিনে ছেলের সঙ্গে আব্দুল বাতেনের দেখা হয়নি। ঘটনার দিন গত শুক্রবার সকালে ছেলের সঙ্গে দেখা হলেও কোনো কথা হয়নি। ওইদিনই বিকেলে আজিমকে হোপ মা ও শিশু হাসপাতালের পঞ্চমতলায় ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করেন রাজু ও তার সহযোগীরা।
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘রাতে আমাকে ডেকে নিয়ে গুরুতর অবস্থায় আজিমকে আমার হাতে তুলে দেন রাজু। পরে ফেনীর হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার ছেলে মারা যায়। আমি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
ঘটনার পর থেকেই রাজু পলাতক। তার মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মিরসরাই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীনেশ দাশ জানান, নিহতের বাবা হত্যা মামলা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে অবশ্য থানা সূত্রে জানা গেছে, রাজু ও তার সহযোগী ফরিদ, জাহেদ ও তারেকের নাম উল্লেখ এবং আজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন আব্দুল বাতেন।
এদিকে, গতকাল রবিবার সকালে ফেনীর দাগনভূঁইয়া বাজারে আজিম হত্যার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। এতে দাগনভূঁইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মিন্টু, দাগনভূঁইয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান কচি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাসের চৌধুরী আসিফ প্রমুখ অংশ নেন।
