দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূলের পেঙ্গুইন হাসপাতাল

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ১০:৪১ পিএম

ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলে দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূল আফ্রিকান পেঙ্গুইনের একমাত্র বিচরণ ক্ষেত্র। ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীটির সংখ্যা। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় পাখি সংরক্ষণ সংস্থা চালাচ্ছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

তেলে বিপর্যস্ত পেঙ্গুইন

২০০০ সালের ২৩ জুন কেপটাউন উপকূলে একটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। সেই সামুদ্রিক জাহাজ ‘ট্রেজার’ চীন থেকে ব্রাজিলে লোহার আকরিক নিয়ে যাচ্ছিল। লোহা ছাড়াও জাহাজে ছিল ৪০০ টন বাঙ্কার তেল। বাঙ্কার তেল খুবই ভারী আর চিটচিটে। যেকোনো সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য তা তীব্র বিষাক্ত। এদিকে কেপটাউন উপকূলের মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে রবেন ও দাসেন দ্বীপ। দ্বীপ দুটির মধ্যবর্তী অঞ্চলটি পেঙ্গুইনের বাসস্থান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বলা যায় আফ্রিকান পেঙ্গুনের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি এই অঞ্চলে। এদিকে পুরো তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে সামুদ্রিক প্রাণীর পরিবেশ বিপন্ন করে ফেলে। সেই থকথকে তেলে ভাসা জলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আফ্রিকান পেঙ্গুইন।

জাহাজডুবির আগে থেকেই সমস্যায় জর্জরিত ছিল এই প্রাণী। গত শতাব্দীতে ৪০ লাখ আফ্রিকান পেঙ্গুইন ছিল। ২০০০ সালের ভেতরে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় মাত্র ১ লাখে। অর্থাৎ বিপন্ন প্রাণীর খাতায় ইতিমধ্যেই নাম উঠে গেছে তার। ফলে এই জাহাজডুবির ঘটনা খুব সাধারণ কিছু নয়। সমুদ্রের পানিতে ভাসমান বাঙ্কার তেল এবারে মুছে ফেলবে এই প্রাণীর অস্তিত্ব। রীতিমতো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। ঘটনা আঁচ করতে পেরে কিছু মানুষ পেঙ্গুইনের সাহায্যে এগিয়ে এলেন। সমুদ্রে শুরু হলো তেল পরিষ্কার অভিযান। সাধারণ লোকেরা উদ্ধারকৃত পেঙ্গুইন পরিষ্কার ও খাওয়ানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবা দেওয়া শুরু করলেন। সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডসের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপচেপড়া ভিড়। হারিয়ে যাওয়ার কবল থেকে পেঙ্গুইন উদ্ধারে মানুষের এই ঢল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষিত কর্মীরা তাদের জ্ঞান দিয়ে সামলে নিচ্ছিলেন পেঙ্গুইনদের। কিন্তু সাধারণ মানুষের বেলায় বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। পেঙ্গুইনের ধারালো ঠোঁট ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের। পেঙ্গুইনের গা থেকে তেল সরিয়ে নেওয়ার পরে দেখা গেল অনেক পেঙ্গুইন আহত। তাদের জন্য ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য যে ব্যবস্থা করা হচ্ছিল সেসব পেঙ্গুইনের দল মেনে নিতে পারছিল না। ফলে আহত-বিপর্যস্ত পেঙ্গুইনের আগ্রাসী আচরণ মেনে নিতে হচ্ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের। কিন্তু কিছুই যেন দমিয়ে রাখতে পারছিল না মানুষকে। সমুদ্রের প্রাণীদের বিপর্যস্ত হয়ে পড়া জীবনের ভার নিয়েছিল মানুষই। ১২ সপ্তাহে ‘আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা’ মেনে নেওয়া ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সংরক্ষণ কেন্দ্রের মাত্র ১৩০ জন মানুষের তত্ত্বাবধানে ২০ হাজার পেঙ্গুইনের তেল অপসারণ করা হলো। সেই বিশাল সংখ্যক পেঙ্গুইনের জন্য দরকার হতো ৪০০ টন মাছ। মাছ ধরা ও খাওয়ানোর দায়িত্বও পড়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপরে। সানন্দে সমস্ত কাজ করে যাচ্ছিলেন তারা। এখানে বলে রাখা ভালো ২০ হাজার পেঙ্গুইনের গা থেকে সমস্ত তেল ধুয়ে ফেলার জন্য দরকার হয়েছিল ৭ হাজার ৫০০ লিটার ডিটারজেন্ট! কেবল পেঙ্গুইনই নয় আরও অনেক প্রজাতির প্রাণী এই ভাসমান তেলে বিপদে পড়ে গিয়েছিল। পোর্ট এলিজাবেথ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে প্রায় ২০ হাজার পাখি সেবার ভাগ্যগুণে বিপদ কাটাতে সক্ষম হয়েছিল। সেসব পরিযায়ী পাখির দল তখন আটলান্টিক থেকে ভারত মহাসাগরে ভিড়ছিল। ফলে তেলের ঝামেলা সহজেই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল তারা।   

একুশ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগে পেঙ্গুইনের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিশ্চিহ্ন হতে পারেনি কেবল এসএএনসিসিওবির জন্য। সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে সে যাত্রায় এই সংগঠন ৪০ হাজার পেঙ্গুইন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। 

পেঙ্গুইন হাসপাতাল 

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপন্ন সামুদ্রিক পেঙ্গুইনের নাম উল্লেখ করা মাত্র যে সংগঠনের নাম অবধারিতভাবে চলে আসে তার নাম দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় পাখি সংরক্ষণ সংস্থা। উপকূলের সমস্ত বিপন্ন পাখিদের ভার যেন তাদের হাতে। সংস্থার ভেতরে ঢুকতেই দেখা যাবে হয়তো অপারেটিং টেবিলে রোগী হিসেবে চুপচাপ শুয়ে আছে একটি আহত পেঙ্গুইন। আহত পেঙ্গুইনের সেবায় একদল চিকিৎসক ছোটাছুটি করছেন। হিসহিস শব্দ করে এনেস্থেশিয়া মেশিন থেকে বেরিয়ে আসা তরল পেঙ্গুইনটির আহত স্থান অবশ করে ফেললে ছুরি কাঁচি চালানো শুরু করলেন চিকিৎসকরা। এসব কাজের উদ্দেশ্য একটিই । সেটি হলো– পেঙ্গুইনটি যেন তার নিজের জীবনে ফিরে যেতে পারে। পেঙ্গুইন ছাড়াও সেখানে দেখা অন্যান্য আহত পাখির সমাহার। হয়তো পেঙ্গুইনের জন্য বরাদ্দ সুইমিং পুলে সদ্য সুস্থ হওয়া একটি পেঙ্গুইন হুট করে মারা গেল। পাশে থাকা একজন ইন্টার্ন ডাক্তার তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। ভালোবাসা এখানে অসীম, হৃদয় এখানে যতেœ উৎসারিত।  সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডস একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা। সামুদ্রিক পাখি পুনর্বাসনের কাজ করে থাকে সংস্থাটি। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নিবন্ধিত একমাত্র সংস্থা এটি। সংস্থাটি এর জন্মলগ্ন থেকে পাখি পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে।

যেভাবে শুরু হলো

১৯৬৮ সালে সুয়েজ খাল নিয়ে আরব ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় দিনের যুদ্ধে ছয়দিন সুয়েজ বন্ধ থাকে। সুয়েজ বন্ধ থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূল ঘুরে ভারত মহাসাগর থেকে আটলান্টিকের দুই পাড়ে তেল পরিবহন শুরু হয়। সুয়েজ খাল তৈরি হওয়ার আগে বা পরেও এই রুট ধরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সব স্থানে তেল আবিষ্কারের পর থেকে সুয়েজ খাল দিয়েই তেল পরিবহন হয়ে আসছিল। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে ভাসমান তেলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক ও দক্ষিণ মহাসাগরের মিলনস্থল। ফলে গভীর সমুদ্র থাকে উত্তাল। এই এলাকার গভীর সমুদ্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণও থাকে বেশি। তাই তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল উপচানোর ঘটনা, জাহাজে লিকেজ এমনকি জাহাজডুবির ঘটনাও থাকে বেশি। অপরিশোধিত তেল খুব আঠালো ও ভারী হয়ে থাকে। পেঙ্গুইন মূলত গভীর সমুদ্রচারী পাখি। এই তেলে পেঙ্গুইন আটকা পড়া মানে বাইরের সাহায্য ছাড়া সেখান থেকে উদ্ধারের কোনো উপায় থাকে না।

১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে উপকূলীয় পেঙ্গুইন রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয় সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডস। সমুদ্রে ভাসমান তেল থেকে ১৯৬৯-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২০০ থেকে ২ হাজার পেঙ্গুইন ও অন্যান্য উপকূলীয় পাখি উদ্ধার করে তারা। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে কেপটাউন উপকূলের কাছে চীনা তেলবাহী জাহাজ এমভি অ্যাপোলো সি ডুবে যায়। সে জাহাজে ছিল ২ হাজার ৪০০ টন অপরিশোধিত তেল। সামুদ্রিক উত্তাল পরিবেশে কোনোভাবেই সে তেল সরিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছিল না। এই তেলে আটকা পড়ে হাজার হাজার সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু ঘটে যার বেশিরভাগই ছিল পেঙ্গুইন। এই বিপর্যয়ের সময় কেবল একটি প্রজনন ক্ষেত্র থেকে ১০ হাজার পেঙ্গুইন উদ্ধার করা সম্ভব হয়। যাদের ভেতরে মাত্র ৫ হাজার পেঙ্গুইন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাত্র ৬ বছরের মাথায় প্রায় একই স্থানে এমভি ট্রেজার ডুবে যায়। এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনায় কমতে থাকে আফ্রিকান পেঙ্গুইনের সংখ্যা। প্রতিটি উদ্ধার অভিযানেই যে সংস্থাটি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে কাজ করে যায় তার নাম সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডস। এটি ১৯৮৩ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি পেঙ্গুইন উদ্ধার করেছে। সময়ের হিসাবে এই সংখ্যা যে অপ্রতুল সে কথা বলাই বাহুল্য।

পেঙ্গুইন বিলুপ্তির ইতিহাস

১৯৫০ এর দশকের কথা। আফ্রিকা তখনো ফরাসি উপনিবেশ। কিছু ফরাসি শেফ পেঙ্গুইনের ডিম থেকে অসামান্য এক রেসিপি তৈরি করেন। ইউরোপ জুড়ে সে রেসিপি জনপ্রিয় হয়ে উঠলে দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়ে ওঠে পেঙ্গুইনের ডিমের বাজার। ডিমের নিয়মিত চাহিদা তৈরি হয়। দাসেন দ্বীপ পেঙ্গুইনের সবচেয়ে বড় প্রজনন ক্ষেত্র। ১৯৬০ এর দশকে দাসেন দ্বীপ থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার ডিম সংগ্রহ করা হতো। এই ডিম ডজন ধরে বিক্রি করা হতো। এক কাস্টমারের কাছে কোনোভাবেই দুই ডজনের বেশি ডিম বিক্রি করা হতো না। এমনিতেই অপ্রতুল এই ডিম আরও দু®প্রাপ্য করে তোলা হয়। চাহিদার মূলনীতি অনুসারে দু®প্রাপ্য এই ডিমের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এই ডিম সংগ্রহের একটি বিশেষ নিয়ম ছিল। শুধুমাত্র সদ্য পাড়া টাটকা ডিমই সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু সদ্য পাড়া ডিম চেনা যাবে কীভাবে? পেঙ্গুইন প্রজনন ক্ষেত্রে আগে থেকে পেড়ে রাখা সব ডিম তাই ভেঙে ফেলা হতো। যেন নতুন ডিম আলাদাভাবে চেনা যায়। কয়েক দশকের এই ডিম সংগ্রহ অভিযানের ফলে পেঙ্গুইনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেতে থাকে। একই সঙ্গে কমতে থাকে প্রাপ্ত ডিমের পরিমাণ। তাই আরও বেশি দুর্লভ আর দু®প্রাপ্য হয়ে ওঠে এই ডিম। ১৯৭০ দশক পর্যন্তও এই ডিম সংগ্রহ চলত। সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডসসহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে পেঙ্গুইনের ডিম সংগ্রহের বিষয়টি, টিকিয়ে রাখা গেছে আফ্রিকান পেঙ্গুইনের প্রজাতি।

নতুন সংকট

বিগত কয়েক দশকে সমুদ্র থেকে বাণিজ্যিক মাছ ধরার পরিমাণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান উপকূলীয় অঞ্চল লিজ নিয়ে মাছ ধরে চলেছে। এর মধ্যে আছে ক্যানড ফিশ সার্ডিন। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সার্ডিন শিকারে পরিমাণ। তৈলাক্ত এই মাছটি পেঙ্গুইনের অন্যতম প্রধান খাদ্য উপাদান। লিজ নেওয়া জায়গা থেকে কোম্পানিগুলো পেঙ্গুইনকে মাছ খেতে দিতে নারাজ। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য মাছ খেতে হচ্ছে পেঙ্গুইনকে, পাচ্ছে না পর্যপ্ত পুষ্টি উপাদান। এর প্রভাব পড়ছে প্রজননে। ফলাফলস্বরূপ কমে আসছে কম বয়সী পেঙ্গুইনের সংখ্যা। আছে আরও একটি সংকট। বৈশ্বিক জলবায়ুর চূড়ান্ত পরিবর্তন ঘটেছে কয়েক দশকে। এর প্রভাব পড়েছে সমুদ্রের জলে। সমুদ্রের নানা স্তরের তাপমাত্রার তারতম্যে ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন, বদলে যাচ্ছে বিচরণ ক্ষেত্র। গভীর সাগরের এক স্রোতে ভাসা মাছ এখন ভাসছে অন্য স্রোতে। ফলে পেঙ্গুইনের স্বাভাবিক আবাস ও প্রজনন ক্ষেত্র ছেড়ে আরও পূর্ব দিকে চলে যেতে হচ্ছে। বাসস্থান বদলানোর এই ঝক্কি হয়তো পূর্ণ বয়স্ক পেঙ্গুইন সামলে নিচ্ছে কিন্তু ঝামেলা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অপেক্ষাকৃত তরুণদের বেলায়।

পেঙ্গুইন নিয়ে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে গবেষণা করছে সাউথ আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব দ্য কোস্টাল বার্ডস। এই দলের একজন গবেষক শেরলি জানিয়েছেন, ৩১ শতাংশ তরুণ পেঙ্গুইন পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তরুণ পেঙ্গুইন যদি মাছের সঙ্গে সাঁতার কেটে পূর্ব দিকে যেতে পারত তাহলে জন্মহার ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হতো। বর্তমানে প্রতিটি পেঙ্গুইন বাঁচানোর চেষ্টা আগেরটির থেকেও বেশি কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।’

৫০ বছর আগে তৈলাক্ত পেঙ্গুইন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তাদের কাজের ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে আরও অনেক দূর। পেঙ্গুইনের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক পাখি ও প্রাণী উদ্ধারের কার্যক্রম যেমন চালাচ্ছেন, তেমনি পেঙ্গুইনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের একটি জীববৈচিত্র্য প্রকল্পের আওতায় পেঙ্গুইনের জন্য নতুন করে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির কাজ করছে এই সংগঠনটি। পরিত্যক্ত ডিম থেকে উদ্ধার করা বাচ্চা ও সাগর থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা করা বাচ্চা পেঙ্গুইন এখানে অবমুক্ত করার কাজ চলছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০টি তরুণ পেঙ্গুইন আছে এখানে। হয়তো এরকম নানা প্রচেষ্টার ফলেই বিপন্ন এই প্রজাতিটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে আরও দীর্ঘদিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত