মেননের আত্মজীবনীতে বদরুদ্দীন উমরের বিরুদ্ধে ‘কুৎসা রটনা’র অভিযোগ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ১০:৫৪ পিএম

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনীতে ‘কুৎসা রটনা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বদরুদ্দীন উমর। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ আনেন।

সম্প্রতি রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘এক জীবন : স্বাধীনতার সূর্যোদয়’ প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। বইয়ে মেনন বদরুদ্দীন উমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, বদরুদ্দীন উমর ১৯৬৮-৭০ সময়কালে ‘গণশক্তি’র সম্পাদক থাকাকালে পশ্চিমবঙ্গের ‘দেশব্রতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নকশালদের উদ্যোগে ‘কৃষক বিপ্লবী অঞ্চল’ গড়ে তোলার খবরগুলো কেবল জায়গার নাম পাল্টে বাংলাদেশের নামে চালিয়ে দিতেন (পৃ.২৫৮ ও ২৬৪)।

রাশেদ খান মেনন লেখেন, ‘বেশ কিছুদিন গণশক্তিতে এ ধরনের সংবাদ ছাপা হয়েছে। পরে বিষয়টা ধরা পড়লে বন্ধ হয়’।

বইয়ে মেননের অভিযোগ, একই কাজ উমর সাহেব মুক্তিযুদ্ধকালেও পার্টির গণবাহিনীর নামে করেছেন।

মেননের মন্তব্য, ‘এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতে, ক্ষতি করতে তার [ব.উ.] জুড়ি মেলা ভার’।

রাশেদ খান মেননের দেওয়া তথ্য ‘অসত্য’ উল্লেখ করে বদরুদ্দীন উমর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ দেশের রাজনীতিতে বামপন্থী নামে পরিচিত কমিউনিস্ট আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী রাশেদ খান মেনন তার সদ্য প্রকাশিত আত্মজীবনী, ‘এক জীবন: স্বাধীনতার সূর্যোদয়’ এ আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে নিযুক্ত হয়ে লিখেছেন যে, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সালে ‘গণশক্তি’ পত্রিকায় তৎকালে চলমান ভারতের নকশালবাড়ী আন্দোলনের যে রিপোর্টগুলি সেখানকার ‘দেশব্রতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, সেগুলিতে জায়গার নাম পাল্টে আমি পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা বলে চালিয়ে দিতাম। এটা কীভাবে সম্ভব বোঝা মুশকিল। কারণ ‘দেশব্রতী’তে প্রধানত থাকত সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় বাঘা-বাঘা জোতদারদের গলা কেটে তাদের হত্যার রিপোর্ট। তৎকালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশ্য কোনো পত্রিকায় কী সে ধরনের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব ছিল? অন্ধ বিদ্বেষ ও মতলববাজী মানুষকে কীভাবে কাণ্ডজ্ঞানহীন করতে পারে, এ হলো তারই দৃষ্টান্ত। আমি গণশক্তির সম্পাদক ছিলাম। তা ছাড়া ছিল পার্টি নিয়ন্ত্রিত সম্পাদকমণ্ডলী। পার্টির অনুমোদনের বাইরে কোনো কিছুই ‘গণশক্তি’তে ছাপা হতো না’।

বদরুদ্দীন উমর আরো অভিযোগ করেন, ‘দ্বিতীয়ত, উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ১৯৬৮-৬৯ সালে ‘গণশক্তি’  নামে কোনো পত্রিকা ছিল না। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) অঘোষিত মুখপত্র হিসাবে ‘সাপ্তাহিক গণশক্তি’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবং বন্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে। কাজেই ১৯৬৮-৬৯ সালে গণশক্তির কথা বলা এক মহা মিথ্যা ছাড়া আর কী? আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলাম ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত’।

তিনি বলেন, ‘১৯৬০ এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত আমি এ দেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে যে কাজ করেছি সেটা এখানকার জনগণের কাছে সুবিদিত। কাজেই আমি এখানে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। পাঁচ খণ্ডে লিখিত আমার আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ এ (প্রকাশক বাঙ্গালা গবেষণা) আমি আমার জীবনের কর্মবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেছি’।

‘মেনন আমার বিরুদ্ধে যে বানোয়াট কথা লিখেছেন, তার জবাবে আমি শুধু এটুকুই বলা দরকার মনে করি যে, আমি বাম বা কমিউনিস্ট আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো অন্তর্ঘাতমূলক চক্রান্ত করে এসেছি, এরশাদের শাসন আমলে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এজেন্ট হিসাবে এরশাদের অফিস থেকে নিয়মিত টাকা নিয়েছি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা করা সত্ত্বেও তাদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছি, কোনো বিখ্যাত সরকারি কলেজের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ছাত্র ভর্তির সময় তাদের থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছি, আওয়ামী লীগের মাস্তানদের দ্বারা পরিচালিত জুয়াড়ি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেছি– এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করতে অপারগ হয়ে আমার বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগ ছাড়া মেনন অন্য কোনো কথা খুঁজে পাননি’।

‘বেচারা মেনন!’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত