বগুড়ার করোনা বিশেষায়িত সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৩ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহকারী সরঞ্জাম হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা-সংকটে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে রোগীদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও শ্বাসকষ্টের কারণেই তাদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। হাসপাতালটিতে এখনো অন্তত ১০ জন জটিল অবস্থার রোগী রয়েছে। অথচ হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র দুটি।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ধারণক্ষমতা ২০০ রোগীর হলেও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছে ২২৩ জন। এর মধ্যে ১০ রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা একেবারেই নিচের দিকে, যাদের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা দরকার। কিন্তু শ্বাসকষ্ট থাকা এই রোগীদের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র দুটি। অক্সিজেন সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জটিল অবস্থার রোগীদের বাঁচানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার দুটি সরকারিসহ তিন হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট থাকা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে মোট ২৩টি। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ২টি, শজিমেক হাসপাতালে ১২টির মধ্যে সম্প্রতি বৈদ্যুতিক গোলযোগে একটি পুড়ে যাওয়ায় ১১টি এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে ১০টি।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, তাদের হাসপাতালে রোগীর যে পরিমাণ চাপ তা মোকাবিলায় অন্তত ২০টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন, কিন্তু আছে মাত্র দুটি। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অধিক শ্বাসকষ্টে থাকা রোগীদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, গত বছর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত ঘোষণা করার সময় আইসিইউ ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কোনোটাই ছিল না। পরে ৮ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয় এবং সেখানে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার বরাদ্দ মিলেছে মাত্র দুটি। বরাদ্দ চেয়ে কয়েক দফা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো বরাদ্দ মেলেনি।
