খুলনা অঞ্চলে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রতিদিন বাড়ছে। ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। এই অবস্থায় নতুন করে নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫ শয্যার করোনার ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজ শনিবার তৃতীয় এ করোনা ইউনিটটি চালু হতে পারে।
অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল পরিচালিত ১৩০ শয্যার ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালটিও ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুলনার দুটি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য বাড়ছে আরও ১১৫ শয্যা।
শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ২৯ জুনের পত্রের মাধ্যমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালুর নির্দেশ দেয়।
৩০ জুন সকালে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. এস এম মোর্শেদের সভাপতিত্বে সকল বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তে ১ জুলাই সকাল থেকেই হাসপাতালের উত্তর পাশের জরুরি বিভাগসংলগ্ন প্লাস্টিক অ্যান্ড বার্ন ইউনিটের ২০টি এবং ফিজিক্যাল মেডিসিনি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে ১৫টি বেড স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়। ওই ৩৫টি বেড ছাড়াও চতুর্থ তলার আইসিইউ বিভাগের ১০টি বেডও করোনার রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে শুধু পজিটিভ হয়েছে এমন রোগীদের ভর্তি করা হবে। এজন্য ইউনিটটি সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। নিচতলা থেকে রোগীদের চতুর্থ তলার আইসিইউতে নেওয়ার জন্যও ব্যবহার করা হবে পৃথক লিফট।
খুলনা করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, শুক্রবার ১৩০ শয্যার হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৪ জন, যার মধ্যে রেড জোনে ১১০ জন, ইয়ালো জোনে ৪১ জন, আইসিইউতে ২০ জন ও এইচডিসিতে ২০ জন। শয্যা না থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের থাকতে হচ্ছে মেঝেতে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, শুক্রবার খুলনা জেনারেল হাসপাতালে সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ৬৬ জন। হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতা ৭০ শয্যা।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ও করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, শনিবার থেকে যাতে করোনা রোগী ভর্তি করা যায় সেজন্য চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের হাসপাতালে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক ডা. এস এম মোর্শেদ জানান, আপাতত যে জনবল আছে তা দিয়েই যাত্রা শুরু হবে। তবে আরও কিছু জনবল চেয়ে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় ২০ জন ডাক্তার, ৫০ জন নার্স এবং ৫০ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী চাওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এ জনবল না দেওয়া হলে করোনা ইউনিট চালিয়ে রাখা অসম্ভব হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, জেলায় শিগগিরই ১১৫ নতুন শয্যা যুক্ত হচ্ছে। এতে করে রোগীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
