কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৬

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ০২:২১ এএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় চরএলাহী বাজার থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ে চরএলাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরএলাহী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে।

সংঘর্ষে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধরা হলেনÑ চরএলাহী ৪নং ওয়ার্ডের হেলাল মেম্বারের ছেলে মো. রুবেল (২৫), প্রয়াত আবদুল খালেক মেম্বারের ছেলে বাহার উদ্দিন (৩৬), সিরাজ আলমের ছেলে সবুজ (৩৮), জইধর মিয়ার ছেলে ইউসুফ (৩৩), মো. বেলালের ছেলে ফিরোজ (২৪) ও জামাল উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াছ (২২)।

চরএলাহী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গনির সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিবাদের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবদুল গনি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী। আর চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা গনির অনুসারীরা প্রথমে চরএলাহী বাজারে ককটেল ফাটিয়ে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কয়েকজন অনুসারীকে মারধর করে সেখানে অবস্থান নিতে চেষ্টা করে। পরে রাজ্জাকের অনুসারীরা জোট বেঁধে গনির অনুসারীদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গোলাগুলি ও ককটেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

আবদুল গনির অনুসারী চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাক, তার ভাই খোকন, জব্বর, শাহীন ও কালামের নেতৃত্বে তার বাড়িসহ আরও তিনটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালালে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করেন হেলাল।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ভাই আবদুল আজিজ খোকন দাবি করেন, তার ভাই রাজ্জাক এলাকায় নেই। হামলার সঙ্গে তিনি, তার ভাই এবং তাদের কোনো অনুসারী জড়িত নয়।

আবদুল আজিজ বলেন, ‘আবদুল গনির নির্দেশে তার ভাই কামাল, বেলাল, নবী ও হেলাল মেম্বার প্রথমে চরএলাহী বাজারে ককটেল হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আমাদের কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তারা আমাদের অনুসারী ধনু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। আরও কয়েকটা বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। আমাদের তিনজন আহত হন।’

চরএলাহীতে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত