দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় নিখোঁজের এক দিন পর জাকিয়া আক্তার (১১) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রসুপুল ইউনিয়নের বনড়া গ্রামে একটি বিলের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
জাকিয়া উপজেলার তারগাঁও ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এবং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় মাসখানেক হলো জাকিয়া দেড় কিলোমিটার দূরে তরলা বাজার এলাকায় ফুপাতো ভাই শরিফুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ছে। শনিবার দুপুরে সে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না আসায় পরিবারের সদস্যরা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, জাকিয়া প্রাইভেট পড়তেই যায়নি।
এরপর সম্ভাব্য সবখানে সন্ধান করেও তার খোঁজ মেলেনি। এরই মধ্যে গতকাল সকালে শিক্ষকের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বিলের রাস্তার পাশে নতুন মাটির ঢিবি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে কাছে গিয়ে তারা স্কুলব্যাগের অংশ বের হয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়।
কাহারোল থানার ওসি ফেরদৌস আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মাটি খুঁড়ে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক সুরতহালে মেয়েটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে বিকেলে হত্যা মামলা করেছেন। জাকিয়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গতকাল দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোমিনুল করিম, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রওশন আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
