লকডাউনে হাট বসা নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ১২:৩৭ এএম

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের দুই হাজার খামারে সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে দেশব্যাপী চলমান ‘কঠোর লকডাউনে’ হাট বসা এবং চোরাইপথে পাশের দেশ থেকে পশু প্রবেশ নিয়ে শঙ্কিত খামারিরা। তারা বলছেন, সরকার পশুর হাটের অনুমতি না দিলে তারা বড় ক্ষতির মধ্যে পড়বেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলায় কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করেছেন কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার খামারে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন তারা। তাদের দাবি, পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এবং দেশীয় খাবার খাইয়ে পশুগুলোকে লালনপালন করেছেন তারা।

পঞ্চবটী এলাকার খামারি আবুল হাসেম জানান, তার খামারে ব্রাহামক্রস ও দেশি জাতের ৩২টি গরু ঈদের হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহামক্রস জাতের ‘রাজা’ ও ‘বাদশা’ নামে দুটি বড় ষাঁড় আছে। রাজার ওজন ৯০০ আর বাদশার ৭০০ কেজি। তিনি আশা করেন, দুটি ষাঁড় তিনি ৫ ও ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়া তিনি গয়ালজাতের ৩০টি ভেড়া প্রস্তুত করেছেন বিক্রির জন্য। কালীপুরের আক্তার হোসেন জানান, তার খামারে ২৮টি ব্রাহামক্রস ও দেশি জাতের ষাঁড়, দুটি দেশি জাতের বলদ ও ২১টি খাসি কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। আগানগরের খামারি রুবেল মিয়া বলেন, দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক ঘাস-খড় খাইয়ে দেশি জাতের ২৪টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন বিক্রির জন্য।

তবে শঙ্কা প্রকাশ করে এসব খামারি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’ চলমান থাকায় কোরবানির পশুর হাট না বসলে এবং পাশের দেশ থেকে চোরাইপথে পশু প্রবেশ করলে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন। কোরবানির পশুর হাট বসতে লকডাউন শিথিল করা এবং ভিনদেশ থেকে পশু প্রবেশ বন্ধ রাখতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, ভৈরবে কোরবানির পশুর চাহিদা আট হাজারের মতো। এবার এখানকার খামারগুলোতে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি গবাদি পশু উদ্বৃত্ত আছে। তাদের তত্ত্বাবধানে এখানকার খামারিরা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে পশুগুলোকে লালনপালন করেছেন। বর্তমান ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে পশু বিক্রিতে কিছুটা বিঘœ হতে পারে বলে তার ধারণা। তবে গত তিন বছরের মতো এবারও দেশীয় পশুর মাধ্যমেই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ কর্মকর্তা জানান, ভিনদেশি পশু প্রবেশে সরকার যে কঠোর অবস্থানে আছে, সেটা যেন অব্যাহত থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত