হাসপাতালে জায়গা নেই ভ্যানে রোগীর চিকিৎসা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ০২:০৬ এএম

হু-হু করে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু। শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে প্রতিদিনই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ হার এখন সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতালে রোগী ভর্তির পরিমাণও বেড়েছে। উপজেলা বা জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে শয্য খালি নেই বেশিরভাগ এলাকায়। রোগী চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সারা দেশের এ অবস্থার মধ্যে চিকিৎসাব্যবস্থার করুণ এক চিত্র সামনে আসে গতকাল বুধবার। যশোর সদর হাসপাতালে খালি শয্যা না থাকায় বারান্দায় ভ্যানের ওপর কভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীরা এমন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন যে সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। জেলাটির কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাদের ইউনিয়নে ঘরে ঘরে জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।

সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষায় ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ থাকে। তার সঙ্গে করোনাভাইরাস যোগ হয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জ্বর না করোনাভাইরাস তা বুঝে উঠতে সময় চলে যাচ্ছে।’

যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের কভিড রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। আর তারা এমন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন যে, সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা এমন বৃদ্ধি পেতে থাকলে অক্সিজেন সংকট তৈরি হবে।’ জেলার সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণের হার অনেক বেশি। এজন্য গ্রামের মানুষ যাতে সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

এদিকে জেলায় গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও যশোর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা পাননি রিনা বেগম। ওয়ার্ড খালি না থাকায় বাইরে খোলা আকাশের নিচেই তাকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। অবশেষে স্বজনরা তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। বরং করোনায় আক্রান্ত জেনে ভয়ে হাসপাতাল থেকে রিনা পালিয়ে গেছেন।

শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় হাসপাতালে আসেন ষাটোর্ধ্ব রিনা বেগম। করোনা সন্দেহে জরুরি বিভাগ থেকে তাকে আইসোলেশন (ইয়েলো জোন) ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে কোনো জায়গা না থাকায় বাইরে খোলা আকাশের নিচেই অক্সিজেন দিয়ে তাকে শুইয়ে রাখা হয়।

রিনার স্বামী আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সোমবার রাত পৌনে ১১টার থেকে রোগী নিয়ে ওয়ার্ডের বাইরে বসে আছি। নার্সদের সঙ্গে কথাই বলা যাচ্ছে না। শুধু অক্সিজেন দিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করেছেন। কোনো চিকিৎসা-ওষুধপত্র নেই। সকালে একজন চিকিৎসক এসে শুধু অক্সিজেন বাড়িয়ে দিয়ে গেছেন। হাসপাতালে এমনিতেই কোনো চিকিৎসা নেই। আমরা রোগীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাব বলে ভাবছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে রিনা বেগমের চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। শ্বাসকষ্ট থাকায় ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আইসোলেশন ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ওয়ার্ডের ভেতরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তাকে রেড জোনে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই রোগী পালিয়ে গেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত