সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। শাহীন হাওলাদারের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের ওই আদেশটি এক মাস অথবা নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শফিক আহমেদ ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর ওই কিশোরীর (১৪ বছর) সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৪ জুন রাতে তারা বিয়ে করার জন্য পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ঘর ছাড়েন। বিষয়টি কিশোরীর বাবা চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে জানান। চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে পরদিন কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২৫ জুন সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে ওই কিশোরীকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি কিশোরীকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান। একই দিন দুপরে কাজি মো. আবু সাদেককে ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার। এই বিয়ের পর তা জানাজানি হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে সমালোচনার মুখে ২৬ জুন একই কাজির মাধ্যমে কিশোরীকে তালাক দেন চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার। চেয়ারম্যানের দাবি, কিশোরী তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৮ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহীন হাওলাদারকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে। সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয় শাহীন হাওলাদারের কাছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন শাহীন হাওলাদার।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিপুল বাগমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা (শাহীন হাওলাদারের আইনজীবী) আদালতে একটি জন্মসনদ দেখিয়েছেন। সে অনুযায়ী তারা বলছেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কিছু বেশি এবং তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক নন। শুনানি নিয়ে আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগের ওই আদেশটি এক মাসের জন্য স্থগিত করেন।’
