দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন সাকিব আল হাসান। বাকি কাজটা সারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের শুরুতে চোখ রাঙাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সাকিব-মিরাজ জ্বললেন মধ্যাহ্নভোজের পর।
দুজনে ৯ উইকেট ভাগাভাগি করে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে দিলেন ২৭৬ রানে। ১৯২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় সেশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিনা উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৮ রান জমা করেছে টাইগাররা। সফরকারীদের লিড এখন পর্যন্ত ২০০ রান।
বাংলাদেশ মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিল অস্বস্তি নিয়ে। চালকের আসনে ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দিনের দ্বিতীয় সেশন শুরুর পর চিত্রটা একেবারে ভিন্ন।
সাকিবের ঘূর্ণিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। দ্রুতই দুই উইকেট তোলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান দেশ সেরা অলরাউন্ডার। মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
দ্বিতীয় সেশন শুরু করে কাইতানো ও ডিয়ন মায়ার্সের জুটি ভাঙেন সাকিব। হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের যা একটু স্বস্তি ছিল ব্রেন্ডন টেলরকে ফেরানো। উইকেটে গেড়ে বসে দ্রুত রান তোলে নিচ্ছিলেন জিম্বাবুয়েন অধিনায়ক।
তবে বেশ কাছে গিয়েও টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি উদ্যাপন করা হয়নি তার। ৯২ বলে ৮১ রানের মাথায় মিরাজের বলে তিনি বন্দী হন বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলীর হাতে।
টেলর ফিরলেও স্বস্তি নিয়ে প্রথম সেশন শেষ করা সম্ভব হয়নি টাইগারদের। উইকেটে গেড়ে বসেন ওপেনার কাইতানো ও মায়ার্স। তবে সাকিব সেই জুটিকে ভয়ঙ্কর হতে দেননি। নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে সাজঘরে ফেরান মায়ার্সকে (২৭)। টেলরের ফেরার পর ১৩৯ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা এই দুই ব্যাটসম্যান।
মায়ার্সের বিদায়ের পর টিমিসেন মারুমাকে (০) নিজের তৃতীয় শিকার বানান সাকিব। পরের ওভারে রয় কাইয়াকে (০) ডাক উপহার দেন তাসকিন আহমেদ। এরপরের ৪ উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরে দিনের সেরা বোলার মিরাজ। ৩১ ওভারে ৮২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
৩৪.৫ ওভারে ৮২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন সাকিব। জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেট এনগা্রাবাকে (০) আউট করেন তিনি। স্বাগতিকেরা ৫১ রান তুলতে শেষ ৭ উইকেট হারায়।
অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা কাইতানোর সেঞ্চুরি কেড়ে নেওয়ার পর ডোনাল্ড তিরিপানো (২), ভিক্তর নুয়াচিকে (০) ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে (২) সাজঘরে ফেরান মিরাজ। অভিষিক্ত কাইতানোর ৩১১ বলের ধৈর্যশীল ৮৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চারে। সেঞ্চুরি করতে পারলে রেকর্ডও করা হতো তার। কিন্তু দলীয় ২৬১ রানে উইকেটের পেছনে লিটন দাশের গ্লাভসে বন্দী হন তিনি।
জিম্বাবুয়ে দিন শুরু করে ১ উইকেটে ১৪১ রান নিয়ে। কাইতানো ৩৩ ও টেলর ৩৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। তৃতীয়দিনে এসে দুজনেই পেয়েছেন অর্ধশতকের দেখা। তার মধ্যে অভিষেকেই ফিফটি কাইতানোর।
মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ১৫০ রানের ঝকঝকে ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৪৬৮ রান। দ্বিতীয়দিনে প্রথম ইনিংস শুরু করা জিম্বাবুয়ের একমাত্র উইকেটটি নেন সাকিব আল হাসান।
