ফুটবল বিশ্ব দুই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরের শিরোপা নির্ধারণীর উত্তাপে কাঁপছে। রবিবার সকাল-রাত যে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে টিভি পর্দায় বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সবার চেয়ে ব্যস্ত যিনি থাকবেন তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় (ব্রাজিল সময় শনিবার রাত ৯টায়) তাকে উপস্থিত থাকতে হবে রিও ডি জেনিরোর মারাকানায়, কোপা আমেরিকার ফাইনালে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী শেষ করেই ছুটবেন বিমান ধরতে। কারণ, আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে তাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপস্থিত হতে হবে লন্ডনে, ওয়েম্বলিতে রবিবার রাত ৮টায় শুরু (বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১টায়) ইউরোর ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীতে।
এ দুই ফাইনালের মধ্যে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ আগ্রহের শীর্ষে। এতদিন ইউরো-কোপার লড়াইয়ে ইউরোপ সামনে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এই রবিবার যে লড়াইয়ে আর কোপার সঙ্গে পারছে না ইউরো। এ সময় অদ্ভুত ফরম্যাট বা খালি স্টেডিয়াম নিয়েও ইউরোর উত্তেজনা ম্লান করে দিতে পারবে কোপা। কারণ, পৃথিবীর সেরা দ্বৈরথটাই যে কাল হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের মারাকানায়। দুই দেশের মধ্যে ইউরোপের প্রাচীন কলোনিয়াল লড়াই বা স্নায়ুযুদ্ধ নেই। আছে নিখাদ ফুটবল ভালোবাসার প্রতিযোগিতা। ফুটবলের প্রতি এই চিরন্তন ভালোবাসা থেকেই এ দুই দেশ থেকে খেলাটির মহানায়করা উঠে এসেছেন। এই দ্বৈরথেও দুই দলের বর্তমান দুই মহানায়ক আছেন। দেখা যাক শেষ হাসি কার মুখে ফোটে।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল এবারের দ্বৈরথ নিয়ে এক নজরে দুই দলের ভেতরকার লড়াইটায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। যুক্তি-পাল্টাযুক্তিতে চলুন দেখে আসি কে এগিয়ে গোলরক্ষণ
পোস্টের নিচের জায়গাটায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্রাজিল বরাবরই এগিয়ে। কিন্তু প্রথমবারের মতো এ জায়গা নিয়ে নির্ভার থাকছে আর্জেন্টিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর ৮ গোলরক্ষককে খেলিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। এর মধ্যে অতি সম্প্রতি ভাল করা এমিলিয়ানো মার্তিনেজই সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এক নম্বরে। কিন্তু ব্রাজিল কোচ তিতেকে ভাবতে হচ্ছে। অ্যালিসন ও এডারসন- দুজনই সমান পারফরম্যান্সে। কেউ এগিয়েও নেই পিছিয়েও নেই। সঙ্গে বেভারটনও প্রতিযোগিতায় আছেন। তাই ফাইনালে তিতে কাকে খেলাবেন তা এক প্রশ্ন।
রক্ষণভাগ
এই অংশে ব্রাজিল পরিষ্কার ফেভারিট। ২০২২ বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্ত রক্ষণভাগ তৈরি করছে সেলেকাওরা। বিশ্বকাপ বাছাই ও কোপা আমেরিকা মিলিয়ে গত ১২ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল হজম করেছে দলটি। অভিজ্ঞতায় দলটির রক্ষণভাগ এতটাই পরিপক্ব যে, তিতেকে এখানে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে থিয়াগো সিলভা এক নম্বর চয়েজ, সঙ্গে পিএসজির মার্কিনহোসের জায়গাও নিতে পারবেন না কেউ। রাইট ব্যাকে দানিলো থাকছেন। লেফট ব্যাকে রেনান লোদি (আতলেতিকো মাদ্রিদ) অথবা ইনজুরি থেকে ফেরা অ্যালেক্স সান্দ্রোর মধ্যে লড়াইটা হবে। আর্জেন্টিনা গত ১২ ম্যাচে গোল খেয়েছে ৮টি। রক্ষণে দলটির বর্তমান ভরসা নিকোলাস ওতামেন্দি। তার সঙ্গী হিসেবে সেমিফাইনালে জার্মান পেসেলা খেলেছেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সে। এখানে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো খেলতেন কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে কোপার শেষ তিন ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। ডান পাশে নাহুয়েল মলিনা এবং বাম পাশে ছিলেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।
মধ্যমাঠ
তিতে জানেন আর্জেন্টিনা মধ্যমাঠে ভালো খেলে। তাই তার প্রিয় ৪-৪-২ ফরমেশনে এ ম্যাচে খেলবেন না। সেমিফাইনালে যেমন মধ্যমাঠে আক্রমণভাগসহ পাঁচজন রেখেছেন, সেভাবেই ছক কষবেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ কাসেমিরো আছেন। তাকে সঙ্গ দেবেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্রেড। তাদের সঙ্গে এভারটন সোরাস ও পাকুয়েতাকে একই সঙ্গে আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শেষের দুজনকে সেমিফাইনালেও একই ভূমিকায় দেখা গেছে। আর্জেন্টিনার অবশ্য এত চিন্তার কারণ নেই। স্কালোনি বরাবরই ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলান দলকে। মধ্যমাঠে তাই লিয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দি পল ও জিওভানি লো সেলসো থাকছেন। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে মধ্যমাঠকে আরও শক্ত করতে চাইলে একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলাতে পারেন স্কালোনি। সেক্ষেত্রে গুইদো রদ্রিগেজ একাদশে সুযোগ পেতেও পারেন। তখন একজন উইঙ্গারকে বসাতে হবে স্কালোনিকে। এই কঠিন সিদ্ধান্ত কি আর্জেন্টিনা কোচ নেবেন?
আক্রমণভাগ
দু’দলের আক্রমণভাগ পুরোটাই নির্ভর দুই মহাতারকায়। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার। নেইমারকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আগের মতো পাকুয়েতা ও এভারটনকে মিডফিল্ডের দায়িত্ব সামলে ওপরে উঠতে হবে। যেমনটা গত দুই ম্যাচে পাকুয়েতা করেছেন। মধ্যমাঠে খেলা পাকুয়েতার সঙ্গে লেফটে খেলা নেইমারের যে দারুণ বোঝাপড়া হয়ে উঠেছে তা গত দুই ম্যাচে স্পষ্ট। এ তিনজনের সামনে স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন রিচার্লিসন। আর্জেন্টিনার মেসিকে ঘিরে থাকবেন লাউতারো মার্তিনেজ। একমাত্র লেফটে নিকোলাস গনজালেজের জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে। এখানে খেলতে পারেন ডি মারিয়া বা লাউতারোর জায়গায় নামতে পারেন সার্জিও আগুয়েরো।
