ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেলকে তলব করে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের কিছু অংশে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল রবিবার তাকে তলব করা হয়। বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গৃহবন্দি’ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করাটা চরম বিভ্রান্তিমূলক বলে এই কর্মকর্তাকে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের বিষয়েও তাদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) ফাইয়াজ মুরশিদ কাজীর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেলকে তলব করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থানকে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ (গৃহবন্দি) হিসেবে মন্তব্য করা চরম বিভ্রান্তিমূলক। এই সময় খালেদা জিয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে, তার ভাইয়ের (খালেদা জিয়ার ভাইয়ের) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি দণ্ডবিধি-১৮৯৮ অনুসারে তার কারাদণ্ড স্থগিত করে গত বছরের ২০ মার্চ তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন না, দেশে চিকিৎসা নেবেন, এই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জাবেদ প্যাটেলকে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য কারাদণ্ড স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চে দুই দফায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাদণ্ড স্থগিত করে মুক্তির আদেশের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এ ধরনের আইনি বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়ার জন্য এই ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। সরকার বা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার না করার জন্য জাভেদ প্যাটেলকে আরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই সময় যুক্তরাজ্যের এই দূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো তার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরবেন। তিনি জানান, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে দুই দেশ বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় ইতিবাচকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাভেদ প্যাটেল বাংলাদেশকে ‘পরিপক্ব গণতন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি।
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মন্তব্য নিয়েও সরকার উদ্বেগ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের যেভাবে অভিহিত করা হয়েছে, তা যেমন আন্তর্জাতিকভাবে ঠিক নয়, তেমনি তা বাংলাদেশের আইনেও স্বীকৃত নয়।
