বাঙালি খাবারে কিশোয়ারের বিশ্বজয়

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ১২:৫৬ এএম

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম সিজনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন কিশোয়ার চৌধুরী। প্রতিটি পর্বে বাঙালি খাবার পরিবেশন করে তিনি জয় করে নিয়েছেন বিচারকদের মন। দেশ-বিদেশ থেকে পেয়েছেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। মাস্টারশেফ হিসেবে কিশোয়ারের যাত্রা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

কিশোয়ার চৌধুরী

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়ায় জন্মের পর সেখানেই বেড়ে উঠেছেন কিশোয়ার চৌধুরী। অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির মধ্যে বড় হলেও বাড়িতে ছিল পুরোপুরি বাঙালি আবহ। পেশায় তিনি বিজনেস ডেভেলপার। বাবা কামরুল হোসাইন চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও সামাজিক কর্মী এবং মা লায়লা চৌধুরী। কিশোয়ারের বাবা ও মা দুজনেই বাঙালি। বাবার বাড়ি ঢাকার উপকণ্ঠে বিক্রমপুরে এবং মার আদি নিবাস কলকাতার বর্ধমানে। দুজনেই ৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। এখানে এসে দুজনের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই বিয়ে।

কিশোয়ার লেখাপড়া করেছেন প্রেসবাইটেরিয়ান লেডিস কলেজ থেকে। মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেছেন ব্যাচেলর অব কমার্স। এরপর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাফিকস ডিজাইনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। কাজের জন্য পাঁচ বছর ঢাকায় থাকতে হয়েছিল কিশোয়ারকে। তার শ্বশুরবাড়িও ঢাকায়। কভিড পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে ৪/৫ বার তিনি ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশে থেকে ও কাজ করে নিজের শেকড় ও সংস্কৃতিকে আরও ভালোভাবে জানতে পেরেছেন এ কথা অবলীলায় স্বীকার করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পর কিশোয়ার বাংলাদেশি না ভারতীয় তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে তাকে ভারতীয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। বাবা-মায়ের কারণে দুদেশের জাতিগত দিকই তিনি পেয়েছেন। কোনো দেশই সম্পূর্ণভাবে তাকে নিজ দেশের বলতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত দুদেশেই তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

রান্নার প্রতি ভালোবাসা

অস্ট্রেলিয়ায় বড় হলেও কিশোয়ারের বাবা-মা তাকে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে সব সময় উৎসাহিত করেছেন। চেষ্টা করেছেন তার ভেতর সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানা তৈরি করতে। ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল। কীভাবে কোন খাবার তৈরি হয় তা নিয়ে সব সময় জানতে চাইতেন। বাড়ির বাগানে চৌধুরী পরিবার নিজেদের সবজি, গোলমরিচ, মিষ্টিকুমড়ো চাষ করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে চাষ করা এসব সবজি দিয়ে খাবার তৈরি করতে দেখতেন কিশোয়ার। ভাইবোন সবাইকেই চাষের কাজে সাহায্য করতে হতো। অবশ্য কিশোয়ারের রান্নার প্রতি ভালোবাসা একদিনে তৈরি হয়নি। তবে এ কথা সত্যি, পরিবারের কাছ থেকেই রান্নার অভ্যাস উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। তার বাবা মাছ ধরতে ভালোবাসতেন। বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে যেতেন ছোট্ট কিশোয়ারও। বাবা মাছ ধরে আনার পর সেটি দিয়েই বাসায় রান্না হতো। তাই ছেলেবেলা থেকেই বাড়িতে তাজা মাছ রান্না করতে দেখে এসেছেন তিনি। তাদের বাড়ির পরিবেশটাই ছিল এমন।

কিশোয়ারের সঠিকভাবে মনে নেই, ঠিক কোন বয়স থেকে তিনি রান্না করা শুরু করেছেন। তবে রান্না ঘিরে একটি স্মৃতি ঝাপসা মনে আছে তার। সেই স্মৃতিতে তিনি মনে করতে পারেন, ৩-৪ বয়সী কিশোয়ার মায়ের সঙ্গে বসে কেক বানানো দেখছেন। তাকে সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, মুরগি কাটার ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে একদম ছোট থেকে। কখনো হয়তো মা কিশোয়ার ও তার বোনকে রান্নার দায়িত্ব দিয়েছেন। দুই বোন মিলে তখন পাস্তা, নুডলস বানাতেন।

এক কথায়, কিশোয়ারের রান্না শুরু হয়েছে বাবা-মায়ের হাত ধরে। তাদের বাড়িতে নিয়ম ছিল, রান্না যেমনই হোক না কেন, প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বিশেষ করে রাতের খাবারে একটি হলেও বাংলাদেশি খাবার থাকতে হবে। আর এভাবেই কিশোয়ার রান্না করা শিখেছেন, রান্নার প্রতি তৈরি হয়েছে আলাদা রকম ভালোবাসা।

রান্না করার সময় বিভিন্ন স্বাদ ও খাবারের মেলবন্ধন করার চেষ্টা করেন কিশোয়ার। তার কাছে যখন যা থাকে তাই দিয়ে খাবার রাঁধেন। কিশোয়ার বলেন, ‘আমি যত জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি, যেসব খাবার খেয়েছি সেসবের ছবি আমার অন্তরে আগে এঁকে নিই। এরপর মনের কথা শুনি। যদি কোনো খাবার আমি কিনতে না পারি, সেগুলো বানিয়ে ফেলি। ফ্রেশ পাস্তা থেকে শুরু করে ক্রিস্টাল ডামপ্লিংস টু স্মোকড ডাক অ্যান্ড ক্র্যাব কারি এসব খাবার তিনি ঢাকায় রান্না করেছেন। মেলবোর্নে এসেও নিয়মিত এসব খাবার রাঁধতেন।

অস্ট্রেলিয়ান মাস্টারশেফে

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ায়ও ২০২০ সালে করোনার প্রকোপ বেড়ে যায়। তখনই মাস্টারশেফে অংশগ্রহণের কথা ভাবনায় আসে কিশোয়ারের। ভাবেন, তার বাবা-মা যেভাবে তার মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির ভিত তৈরি করে দিয়েছেন, তিনি পরের প্রজন্মকে সেই ভিত দিয়ে যেতে পারবেন কি না। আরও ভাবলেন, তার মতো অনেক মা হয়তো এমনটাই ভাবছেন। এসব ভাবনা থেকেই পরের প্রজন্মের জন্য একটি বই লেখার কথা চিন্তা করলেন।

কিশোয়ার অবশ্য শুধু বই লেখার কথা ভেবেছিলেন। তখনো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় অংশগ্রহণের কথা ভাবনায় আসেনি তার। এটা ছিল তার ছেলের স্বপ্ন। ছেলে তাকে প্রায়ই বলত মাস্টারশেফে অংশ নেওয়ার কথা। কিশোয়ার ছেলেও খুব ভালো রান্না করে। তিনি ছেলেকে বলেছিলেন জুনিয়র মাস্টারশেফে অংশ নেওয়ার জন্য। কিন্তু ছেলে তাকে আগে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ছেলের অনুরোধ রাখতেই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কিশোয়ার। বলাবাহুল্য, কিশোয়ারের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। তার অংশগ্রহণ আজ বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

নিজের এই অর্জনের জন্য কিশোয়ার তার ১১ বছর বয়সী ছেলে মাইকেল এবং চার বছর বয়সী মেয়ে সেরাফিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিশোয়ারের এই অর্জনে তাদের ভূমিকাও ছিল অনন্য। বাড়ি থেকে মায়ের প্রতি তারা সব সময় বিশ্বাস রেখেছে। জীবনসঙ্গী এহতেশাম নেওয়াজ সব সময় ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন। তার প্রতিও কিশোয়ারের কৃতজ্ঞতা অসীম।

চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাঙালি খাবার পরিবেশন চ্যালেঞ্জ হলেও কিশোয়ার খুব আনন্দ নিয়ে কাজটি করেছেন। তিনি সব সময় পরিবার ও সন্তানের জন্য রান্না করেন। বন্ধুরাও তার রান্না ভীষণ পছন্দ করেন। তবে প্রশ্ন ছিল, ঘরে তৈরি করা এসব খাবার কীভাবে একটি প্রতিযোগিতার যোগ্য হবে। কিন্তু কিশোয়ারের আত্মবিশ্বাস ছিল প্রচণ্ড। এর জোরেই রান্নার দক্ষতাকে সঙ্গে নিয়ে শীর্ষ ২৪-এ জায়গা করে নিয়েছিলেন কিশোয়ার। সর্বশেষ জায়গা করেন শীর্ষ তিনে। অর্জন করেন দ্বিতীয় রানার্স-আপের খেতাব।

কেন বাংলাদেশি খাবার

অস্ট্রেলিয়া, লন্ডনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি অনেক রেস্টুরেন্ট আছে। কিন্তু সেসব জায়গায় বাঙালি খাবার সেভাবে পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ খাবারই ভারতীয়। এসব রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি হলেও দেশি খাবার রান্না ও পরিবেশনে তাদের আগ্রহ কম। যার কারণে দেশি খাবার পিছিয়ে থাকে সব সময়। তার স্বপ্ন বাংলাদেশি খাবারকে সগৌরবে তুলে ধরা। আর এজন্যই তিনি অংশ নিয়েছিলেন মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায়।

কিশোয়ারের উল্লেখযোগ্য রান্না

বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে আনার জন্য পুরো প্রতিযোগিতা জুড়েই চেষ্টা করেছেন কিশোয়ার। সেই সঙ্গে জয় করেছেন বাঙালির মন। প্রতিযোগিতায় কিশোয়ারের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রান্না যা দিয়ে তিনি বিচারকদের বিস্মিত করেছিলেন

পান্তা ভাত, আলুভর্তা, সার্ডিন মাছ ভাজি  : মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার দুই পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনালের এক পর্বে কিশোয়ার রান্না করেছিলেন স্মোকড রাইস ওয়াটার (পান্তা ভাত), সঙ্গে ছিল আলুভর্তা, শুকনো মরিচ পোড়া, সার্ডিন মাছ ভাজা, কয়েক টুকরো পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচ আর ধনেপাতা কুচি। বাংলাদেশি জনগণের নিত্যদিনের খাবারই বিশ্ব দরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন কিশোয়ার। বিচারকদের সামনে খাবারটি পরিবেশনের সময় তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি খাবার যেটি আপনি কোনো রেস্টুরেন্টে পাবেন না। বিষয়টি ভাবতেই হয়তো বিস্ময় জাগছে। আমি সত্যিই আনন্দিত এমন খাবারটি ফাইনালের জন্য পরিবেশন করতে পেরে।’  বিচারকদের কাছ থেকে খাবারটির ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন কিশোয়ার। জক জনফ্রিলো বলেন, ‘আমার এখনো জিভে পানি চলে আসছে। সত্যিই খুব ভালো মিশেল খাবারটি।’ মেলিসা লিওং বলেন, ‘স্বাদ ও ইতিহাস দুদিক থেকেই খাবারটি শক্তিশালী।’ শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, দূর দেশ বাংলাদেশে বসেও বাঙালিরা তার সৃজনশীলতার দারুণ প্রশংসা করেছে।

আফটার ডিনার মিন্ট : এলিস, জাস্টিন ও কিশোয়ারের মধ্যে প্রতিযোগিতার দৌড়ে কিশোয়ার তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান ‘আফটার ডিনার মিন্ট’। পানপাতায় আইসক্রিমের একটি ডিশ ছিল সেটি। বিচারক মেলিসা লিওং পান পাতায় আইসক্রিম মুখে দিয়ে খাবারটিকে ‘এ লাভ লেটার টু বাংলাদেশ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

খাসির রেজালা  : ‘গেম মিটস’ চ্যালেঞ্জের সেকেন্ড রাউন্ডে ৭৫ মিনিটে কিশোয়ার তৈরি করেছিলেন পরোটা দিয়ে খাসির রেজালা। এই খাবারটি রাঁধতে গিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল কিশোয়ারকে। তিনি বলেন, ‘আমি যদিও রান্না করেছিলাম, কিন্তু সিদ্ধান্তটা খুব কঠিন মনে হয়েছিল। ৭৫ মিনিটে খাসির মাংস রান্না করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। আমি সত্যিই ভয় পাচ্ছিলাম। বেশ জটিল একটি রান্না এটি। সময় প্রয়োজন এর জন্য। তবে আমি চ্যালেঞ্জটি সম্পন্ন করতে চেয়েছিলাম। রেজালা রান্না করতে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে শেখা পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলাম।’ কিশোয়ার বিচারকদের বলেন, ‘আমার যাত্রা এখানে থেমে গেলে খুব কষ্ট পেতাম। আপনাদের বাঙালি মিষ্টি না খাইয়ে আমি অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে চাই না।’

কিশোয়ারের এই খাবারটি নিয়েও বিচারকরা বেশ খুশি ছিলেন। অ্যান্ডি অ্যালেন বলেন, ‘এই খাবারটিকে আমার কাছে খুব শক্তিশালী মনে হয়েছে। খুব ভালো রান্না হয়েছে। এক কথায় দুর্দান্ত।’ জক জনফ্রিলো খাবারটিকে ‘ম্যাজিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ভাপা মাছ : ৭৫ মিনিটে খাসির রেজালা রান্নার পরের পর্বে কিশোয়ার পরিবেশন করেছিলেন ভাপা মাছ। আদা, টমেটো, পেঁয়াজ ও কেওড়ার মিশ্রণের এই খাবারটিও বেশ প্রশংসা কুড়ায়।

ফুচকা-চটপটি : মাস্টারশেফের কিচেনে কিশোয়ার যত খাবার তৈরি করেছেন তার মধ্যে আলাদা করে ফুচকা-চটপটি, সমুচা আর তেঁতুল চাটনির কথা বলতেই হয়। ভোজনবিলাসী বাঙালির অন্যতম পছন্দের খাবার এগুলো। ঢাকার রাস্তায় আড্ডা, গল্পে যেখানে এসব খাবার পরিবেশিত হতো সেসব এখন জায়গা করে নিয়েছে মাস্টারশেফের কিচেনে। তার সৃজনশীলতা বরাবর মুগ্ধ করে আসছে বিচারকদের। ‘আজকের ইনোভেশন টেস্টে আমি তৈরি করেছি বাংলাদেশের রাস্তার পাশের খাবার। খুব সাধারণ আলুকে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করে দেখাতে চেয়েছি একে কতভাবে ব্যবহার করা যায়।’ প্রতিযোগিতায় বলেছিলেন কিশোয়ার।

খিচুড়ি, বেগুনভর্তা  : বাংলাদেশি খাবার পরিবেশনে কিশোয়ার আরও রেঁধেছিলেন খিচুড়ি, মাছ ভাজা, বেগুনভর্তা ও নিরামিষ। এই খাবারটি পরিবেশনের সময় কিশোয়ার বলেছিলেন, ‘খুব সাধারণ এই বাংলা খাবারটি বিশ্বজুড়ে অন্তত ২০০ মিলিয়ন পরিবারে প্রায়ই রান্না করা হয়। এমনকি আমার বাড়িতেও। সাধারণ এই খাবারটি রান্না করলেই আমার মনে হয় আমি যেন বাড়িতেই আছি।’

কালা ভুনা : বাবার কাছ থেকে শিখে প্রতিযোগিতায় কিশোয়ার পরিবেশন করেছিলেন নর্থ আফ্রিকান/মরক্কান স্টাইলে শেখা ভুনা মাংস। ‘মাস্টারশেফের এই পুরো যাত্রায় প্রাচীন রান্না ও মসলা নিয়ে আমি অনেক গবেষণা করেছি। ভুনা শব্দটি খাবারের ধরনকে বোঝায় না। এটি আসলে রান্নার একটি ধরন। শব্দটির উৎপত্তি উর্দু ভাষায়। উত্তর-পূর্ব ভারতসহ বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে অনেক আগে থেকে খাবার ভুনা করা হতো। ভারতীয় মুঘলদের খাবার তালিকায় মসলা ভুনিয়ে খাবার রান্নার প্রচলন বেশি ছিল। ধীরে ধীরে এই ধরনটি জনপ্রিয় হয়। সব বাড়িতেই এভাবে রান্নার প্রচলন হয়।’– এভাবেই নিজের খাবার নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন কিশোয়ার।

বিফ প্যাটিস : ১৩তম সিজনের মাস্টারশেফের কিচেনের শুরুর দিকে কিশোয়ার রেঁধেছিলেন বাঙালি বিফ প্যাটিস, সঙ্গে ছিল টমেটো তেঁতুলের চাটনি ও কামরাঙার সালাদ। ‘এই খাবারটি রান্নার সময় আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে ঢাকার চাঁদনি চকের কথা। রিকশা নিয়ে সোজা গাউছিয়া মার্কেটে গেলে সেখানে বিফ প্যাটিস ও ফুচকার স্টল পাওয়া যাবে। সেখানে আরও পাওয়া যায় কামরাঙার কাসুন্দি, চাট মসলা ও মরিচ। খাবার চাইলে প্লাস্টিক ব্যাগে করে নিয়েও আসা যাবে। বাংলাদেশের রাস্তার পাশের এসব খাবার, বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবার নিয়ে ভাবলে সব সময়ই আমার ভীষণ আনন্দ হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত