পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি বাসে বিস্ফোরণে চীনের ৯ প্রকৌশলীসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার সকালে প্রদেশের কোহিস্তান জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের পরপরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবাদীদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। বলা হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে বাসটিতে বিস্ফোরণ হয়েছিল।
এ ছাড়া তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন কাউন্সিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এ সময় কোরেশি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে বাসে বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ মেলেনি। এটা নিছকই দুর্ঘটনা।’
তবে পাকিস্তানের এ অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান একে পরিকল্পিত বোমা হামলা উল্লেখ করে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন, দুর্বৃত্তদের ধরে কঠিন শাস্তি প্রদান এবং চীনা নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও পাকিস্তানে চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
এরপরই গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘বাসে বিস্ফোরণে নয় চীনা প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে হত্যার পেছনে সন্ত্রাসবাদীদের হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেন না প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।’ এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (ইমরান খান) নিজে বিষয়টি তদারক করছেন। চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়বে।’
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, ৩০ যাত্রী নিয়ে বাসটি বারসিন ক্যাম্প থেকে দাসু হাইড্রোপাওয়ার প্ল্যান্টটিতে যাচ্ছিল। তাতে বিদেশি প্রকৌশলী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও প্ল্যান্টের শ্রমিকরা ছিলেন।
