তিন দিন আগে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। খবরটি বেশ গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছে বাংলাদেশ দল। আইরিশদের ওই জয়ে যে বার্তাটা আসছে তা হলো ওয়ানডে সুপার লিগে এখন আর হালকা ম্যাচ নেই। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ঠিক এই ভাবনাই জানিয়ে গেলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সুপার লিগে বেশ ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজটিতে তামিমদের ৩-০ জয় প্রত্যাশিত। কিন্তু নিজেদের কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের প্রোটিয়াবধ সে ভাবনায় বাধা দিচ্ছে তামিমকে। তাই সহজ সিরিজটিতেও সতর্কতা নিয়ে হারারেতে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় খেলতে নামছেন তামিমরা।
আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক তামিমের পথচলা শুরু উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে। ওই সিরিজেই তামিম বলেছিলেন, এখন আর এই সিরিজগুলো সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। প্রতিটিই সুপার লিগের অংশ। জিম্বাবুয়েকে সামনে পেয়েও সেই একই সুর তামিমের। যদিও ৭৫ ম্যাচের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৪৭ ম্যাচ জিতেছে। আর গত ১৬ ম্যাচেই হারিয়েছে আফ্রিকার দেশটিকে। তারপরও আয়ারল্যান্ডের জয়েই ভয় ধরাচ্ছে তামিমের মনে, ‘দেখুন আয়ারল্যান্ড কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়েছে। আমি চাই প্রতিটি ম্যাচ জিততে, কিন্তু দিন শেষে এটা তো ক্রিকেট। এখানে আপনি প্রতি ম্যাচেই বলতে পারবেন না জিতব। ম্যাচে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে। আর একটি ম্যাচে যেকোনো দল ভালো খেলতে পারে। সেদিন তারাই জিতবে। দক্ষিণ আফ্রিকা উইন্ডিজে সিরিজ জিতেছে কিন্তু আয়ারল্যান্ডে নেমেই হারল। এখানে কন্ডিশনের ব্যাপারও আছে। আমরা তাই ম্যাচ ধরেই এগোতে চাই। এখানে পুরনো বা নতুন জিম্বাবুয়ে বলে কোনো কথা নেই।’
সিরিজের বাকি অংশে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পাওয়া স্ট্রাইক বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকেও একাদশে রাখা যাচ্ছে না। দলের দুই অপরিহার্য সদস্যকে হারিয়ে সেরা একাদশ গড়তে না পারার চিন্তা অবশ্য নেই তামিমের। অধিনায়ক জানালেন তাদের বদলি হিসেবে পরীক্ষিত পারফরমাররাই আছেন, ‘মুশফিকের সিচুয়েশন, মোস্তাফিজের সিচুয়েশন, এসব দিক বিবেচনা করেই আমরা একটি সিরিজের জন্য ১৫-১৬ জন পিক করি। যেন কেউ যদি না খেলতে পারে তবে সঠিক রিপ্লেসমেন্ট যেন পাওয়া যায়। আর মনে হয় না বড় পরীক্ষা করার সুযোগ আছে। এটা যদি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হতো তাহলে সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন ওয়ানডে সুপার লিগের খেলা, এখানে পরীক্ষার সুযোগ নেই। আমরা সেরা দলটাই খেলাতে চাই, এবং সব ম্যাচ জিততে চাই।’
এদিকে জিম্বাবুয়ে দল টেস্ট ম্যাচের মতো ওয়ানডে সিরিজের আগেও নড়বড়ে। ম্যাচের আগের দিন স্থানীয় সময় বিকেলে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে তারা। শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিন করোনা নেগেটিভ হলেও তাদের দলে রাখেনি জিম্বাবুয়ে। উল্টো তিন নবাগতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইনজুরি থেকে ফিরেছেন দলটির পরীক্ষিত পারফরমার সিকান্দার রাজা। এছাড়া সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রায় সবাই আছেন দলে। নেতৃত্বেও আছেন ব্রেন্ডন টেলর।
সুপার লিগে দ্বিতীয় সিরিজ খেলতে নামছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম সিরিজটি ছিল পাকিস্তানের মাঠে। ওই সিরিজে একটি ম্যাচ জিতে ১০ পয়েন্ট পাওয়া এবারের স্বাগতিকরা ঘরের মাঠে পয়েন্ট অর্জনের অপেক্ষায়।
