দুবার মাদকসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন নুসরাতের স্বামী

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ০২:২৪ এএম

অনলাইনে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার পাশাপাশি মাদক কারবারের সহযোগী বলেও অভিযোগ উঠেছে গুলশানের ফ্ল্যাটে মৃত মোসারাত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়ার বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীরা বলছেন, স্বামী মিজানুর রহমান সানিকে অবৈধ মাদক কারবারে বাধ্য করেছেন তিনি। কুমিল্লা শহরে স্বামীকে দিয়ে করেছেন ফেনসিডিল ও ইয়াবার ব্যবসা। এ ব্যবসা করতে গিয়ে নুসরাতের স্বামী মিজানুর রহমান সানি একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। নুসরাত আর মিজানকে এ কর্মকাণ্ডের প্ররোচনাদাতা নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা এবং কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সরবরাহসহ সবকিছুই দেখভাল করেন শারুন চৌধুরী। কুমিল্লার বাসিন্দারা বলছেন, নুসরাত আর তার স্বামীর মাদক ব্যবসার কারণে তরুণ সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই বেপরোয়া জীবনযাপন করতেন নুসরাত। পরিবারের অবাধ্য হয়েই যেখানে-সেখানে দিনের পর দিন বাড়ির বাইরে পড়ে থাকতেন। এ সময় বিভিন্ন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নেশায় জড়িয়ে যান। একসময় পরিবারের কাউকে না জানিয়েই কুমিল্লা জাঙ্গালিয়ার দৈয়ারা গ্রামের মিজানুর রহমান সানির হাত ধরে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার অনেক দিন পর পরিবারের কাছে এসে জানান, তারা দুজনে বিয়ে করেছেন। কিন্তু পরিবার নুসরাতকে আর মেনে নেয়নি।

কুমিল্লা শহরের মানুষ, মুনিয়ার স্কুলশিক্ষক ও প্রতিবেশীরা মনে করেন, শুধু নুসরাতের লোভের বলি হয়ে অল্প বয়সেই ঝরে গেল মুনিয়ার মতো ফুটফুটে তাজা প্রাণ। তারা বলেন, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনসহ অনেকের সঙ্গে মুনিয়ার পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বলতেন নুসরাত। মুনিয়াকে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে দেন। অতিরিক্ত অর্থলোভের কারণে নুসরাত তার স্বামী সানিকে একপ্রকার বাধ্য করেন মাদক কারবারে নামতে। সানি কুমিল্লা বর্ডার থেকে ফেনসিডিল ও ইয়াবা এনে শহরে বিক্রি করতেন। নুসরাত নিজে এ ব্যবসা তদারকি করতেন। বর্ডার থেকে মাদক কিনতে গিয়ে দুবার হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটকও হন সানি। আটকের পর তার বিরুদ্ধে দুবারই মাদক মামলা করে পুলিশ। দুবারই জামিনে বেরিয়ে আসেন সানি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত