লিটন-সাকিবে রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ০৩:১২ এএম

সেঞ্চুরির পর লিটন দাশ উদযাপন করলেন। কিন্তু ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ডের দিনেও কেমন ভাবলেশহীন সাকিব আল হাসান। লিটনের উদযাপনের কারণ আছে। ৮ ইনিংস পর ২৫-এর বেশি রান করলেন, মানে সেঞ্চুরি দিয়েই রানে ফেরার উপলক্ষে আনন্দ করাই যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগে ম্যাচ শেষ করে দিয়ে সাকিবের দেহভঙ্গিÑ এটা তো হওয়ারই ছিল। আসলেই তাই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা ছিল ও প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ১৫৫ রানের বিশাল জয়ে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়ে ওয়ানডে সুপার লিগে ১০ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে আরও এগোল বাংলাদেশ।

২৭৭ রানের টার্গেটে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে সাকিবের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ৫ উইকেটে ২৮.৫ ওভারে মাত্র ১২১ রানে গুটিয়ে যায়। আসলে বাংলাদেশের ২৭৬ রানের ভারেই নুইয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। আর সেই ইনিংস গড়ে দেওয়ার মূলে লিটনের ১১৪ বলের ১০২ রানের ইনিংসটা। তাই ম্যাচসেরা এই ওপেনার।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই সাকিবকে বল দেন তামিম ইকবাল। কিন্তু প্রথম দুই ওভারে পেস-সহায়ক উইকেটে সুবিধা করতে পারেননি। তাই কয়েক ওভার বিরতি দিয়ে ১৫তম ওভারে আবার সাকিবের হাতে বল তুলে দেন। বল একটু পুরনো হওয়ায় এবার অভিজ্ঞতার কারিশমা দেখান সাকিব। ওই স্পেলের দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই তুলে নেন ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নেমে ২৪ রান করা জিম্বাবুয়ান অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরকে। এই উইকেটেই মাশরাফীকে ছাড়িয়ে দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন বাঁহাতি স্পিনার। এরপর আর থামেননি সাকিব। ওই ওভার থেকে শুরু করে পরের ৬ ওভারে ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংসই গুঁড়িয়ে দেন। প্রায় প্রতি ওভারেই উইকেট নিয়েছেন। পেস-সহায়ক উইকেটেও স্পিন বিষ ছড়িয়েছেন তিনি। তাই ম্যাচশেষে সাকিবকে নিয়ে লিটন বলেন, ‘সাকিব ভাই বিশ্বমানের বোলার। উনি উইকেটে স্পিন থাকলেও সুবিধা পান, না থাকলেও পান, তার বোলিংয়ের বৈচিত্র্যটাই এমন। পেস বোলিং উইকেটে উনি ভালো করছেন এটা আমাদের দলের জন্য ভালো।’

তবে দেখার মতো উইকেট ছিল তাসকিনের বলে মাদেভেরের বোল্ড হওয়া। নিজের বলে ব্যাটসম্যানের স্টাম্প উড়ানো সব পেসারেরই স্বপ্ন। এদিন সে রকমই একটি ডেলিভারিতে স্বপ্ন পূরণ হয় তাসকিনের। এক ইনসুইংগারে পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে জিম্বাবুয়ের ওপেনারের মিডলস্টাম্প উড়িয়ে দেন। যেন ফিরিয়ে আনলেন শোয়েব আখতারের বলে ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প ডিগবাজি খাওয়ার ছবি। ৫ ওভারে ২২ রান দিয়ে ওই একটি উইকেটই পেয়েছেন তাসকিন। বাংলাদেশ বোলারদের দাপটে এদিন লড়াই ফিরিয়ে দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ার রেজিস চাকাভার ৫৪ ছাড়া বলার মতো স্কোর ছিল না কারও।

এর আগে জিম্বাবুয়ে পেসাররাও দিনের শুরুটা ভালো করেন। ২০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের চার উইকেট তুলে নেন তারা। তখনো দলের রান ১০০ ছাড়ায়নি। তামিম ইকবাল ফিরেছেন বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার শূন্যতে আউটের রেকর্ড গড়ে। সাকিব ও মিঠুন দুজনেই ১৯ রানে ফেরেন। মোসাদ্দেক করেন ৫। সেখান থেকে ৯৩ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ে ফেরান লিটন-মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহ ৩৩ করে ফিরলেও আর ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হয়নি বাংলাদেশকে। লিটন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি করে ১১৪ বলে ১০২ রানে ফেরেন। এরপর আফিফ হোসেন (৪৫) মিরাজকে (২৬) নিয়ে ৫৮ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।

পুরো ৮ ইনিংস পর রানে ফিরে স্বস্তির শ্বাস লিটনের। ম্যাচশেষে জানান, কভিডের কারণে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। খুব চেষ্টা ও পরিশ্রম এবং সবার সমর্থনে চাপমুক্ত হওয়া সেঞ্চুরিটি পেলেন। তীব্র শীতের সঙ্গে মেঘলা আবহাওয়ায় জিম্বাবুয়ে পেসারদের শুরুর দিককার বল খেলা খুব কঠিন ছিল। মারকুটে বাদ দিয়ে টেস্টের মতো ব্যাটিং করার প্রত্যয়ে সফল হয়েছেন জানালেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগে আমি একটা ভালো ধারাবাহিকতা পেয়েছিলাম। যদি স্বাভাবিক খেলা চলত তাহলে হয়তবা সুযোগ ছিল ভালো পারফর্ম করার, কারণ ওই সময় আমার পিক টাইম চলছিল। এরপর আন্তর্জাতিকে ফেরাটা একটু কঠিন হয়ে গেছে কারণ মাথায় অনেক চিন্তা ছিল যে পারফর্ম করতে হবে, পরিস্থিতিও কঠিন ছিল। এভাবে দেখতে দেখতে আটটা ইনিংস গেছে। চেষ্টা করেছি যত ইনিংসই খেলি না কেন যেন ভালো করতে পারি, দলকে কিছু দিতে পারি। পাশাপাশি সিনিয়ররা সমর্থন দিয়ে গেছেন। পরিবার বিশেষ করে স্ত্রীর কাছ থেকে সমর্থন এসেছে। ভালো লাগছে সেঞ্চুরিটি করে। দলের মিটিংয়ে বলা হচ্ছিল শুরুর ৫ জনের কেউ ৪০ ওভার খেললে বড় স্কোর হবে। ওই জিনিসটাই মাথায় ছিল, যেন কমপক্ষে ৩০ ওভার পর্যন্ত খেলতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত