স্বপ্নের ঘরে হবে খুশির ঈদ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২১, ০১:৩৫ এএম

জমি নেই, ঘরও নেই এরকম মানুষেরা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে আনন্দে ভাসছেন। পাকা ঘর পেয়ে তারা এবারের ঈদ উদযাপন করবেন চরম খুশিতে। ভিটা-বাড়িশূন্য মানুষের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো। নবনির্মিত রঙিন ঘরগুলো পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

মাদারীপুর : ৩৬টি ঘরের মানুষ শান্তি খুঁজে পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারে। ৪০টি ঘর নির্মাণ হলেও ৪টির এখনো পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় ৩৬টি পরিবার তাদের শান্তির নীড় পেয়েছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। এই ৩৬টি ঘরে অবস্থান করছেন একই উপজেলার লামচরী, সাহেবরামপুর, কাজিবাকাই, গোপালপুর, এনায়েতনগরসহ পৌরসভার গৃহহীনরা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বছর উপলক্ষে কালকিনি উপজেলায় ‘ক’ তালিকায় প্রথমে ৪৫৯টি পরিবারের মধ্যে ঘর ও জমি বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাসজমি নির্ধারণ করে তার ওপর নির্মাণ করা হয় ৪০টি ঘর। প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি করে কক্ষ ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি শৌচাগার, একটি রান্নাঘর এবং কিছুটা খোলা জায়গা আছে।

ঘর পাওয়া সালেহা বেগম বলেন, ‘আগে বসতভিটাও ছিল না। ঘর করব কেমনে। পরের জায়গায় পলিথিন দিয়ে থাকতাম। রৌদ বৃষ্টি ঝড়ে কষ্ট করতাম। এহন প্রধানমন্ত্রী ঘর দিছে সেই ঘরে থাহি। দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী যেন ভালো থাহে। 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আহ্বায়ক কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আগামীতে এই পরিবারগুলোর কর্মের ব্যবস্থা করব। 

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্বপ্নের প্রায় ২৫০ ঘরে ভূমিহীন ও গৃহহীন উপকারভোগী সহস্রাধিক লোক বাস করছেন। ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ২ শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছেন উপকারভোগীরা। পাকাঘর পেয়ে তারা এবারের ঈদ উদযাপন করবেন বাড়তি আনন্দে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, মুন্সীবাজার, আলীনগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ২৪১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭৫টি ঘর উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। অন্যের ঘরে আশ্রিত মানুষগুলো এখন নিজের ঘরে বাস করার সুযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে।

মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ গ্রামের ভূমিহীন বাসন্তী মালাকার বলেন, ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে এতদিন খুবই কষ্টে ছিলাম। এখন আমাদের খুবই খুশি লাগছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুরের নয়টি উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত প্রত্যেকটি ঘর যেন ভূমি ও গৃহহীন মানুষের কাছে এক স্বপ্নের ঠিকানা। তাই এবারের ঈদ বড়ই আনন্দের তাদের কাছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমিসহ ঘর পেয়ে বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের সুকদেবনগর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বিধবা রাহেলা বেগম বললেন, আমার ইট্টু জমি হবে, একখান ঘর হবে, এই কথা স্বপ্নেও ভাবি ন্যাই। তয় এইবার আল্লা মুখ তুইল্যা তাকাইছে। মাইয়াগো নিয়্যা জীবনে এই পথমবারের মতো এট্টা ঈদ করব নিজের ঘরে! আমি অহন নিজের এট্টা ঠিকানা পাইছি।’

একই গ্রামের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেকটি ঘরের মালিক আবদুস সামাদ শেখের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, আমাগের মতো গরিবের জীবন তো পথে পথেই শ্যাষ হইয়্যা যায়। কেউ হয়তো বিপদের সময় চাইল, ডাইল, কাপড় দেয়; কিন্তু জমির সঙ্গে ঘর দিয়ার কথা শুনি ন্যাই। আমাগো শেখ হাসিনা আমাগের জন্য এই ব্যবস্থা কইর‌্যা দিছে। আমরা তার প্রতি চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ। আল্লাহ উনারে আরও অনেকদিন বাঁচায় রাখুক। কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ফকির বললেন, একেবারে হতদরিদ্রদেরই বাছাই করে এসব ঘরের তালিকা পাঠানোর পরে সে অনুযায়ীই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা বলেন, একদিন যে মানুষগুলোর কোনো ঠিকানা ছিল না, ছিল না বসবাসের জন্য এক টুকরো ভূমি, মাথার ওপরে একটি ছাদ; বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পাকা ঘর পেয়ে প্রত্যেক উপকারভোগী ও তার পরিবারে নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা। তাদের চোখেমুখে আজ পরিতৃপ্তির হাসি। অনেকের জীবনে এবারকার ঈদ ধরা দিয়েছে এক পরম পাওয়ার ঈদ হিসেবে। নীড়হারা আশ্রয়হীন মানুষগুলো খুঁজে পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, অসহায় মানুষগুলোর এখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, এটা শুধুই অনুভবের বিষয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত