শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে পরলোক গমন করেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। তার আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার হার্ট অ্যাটাক হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তার ছেলে মাশুক আলমগীর রাজিব। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানিয়েছেন, ফকির আলমগীর এর জানাজা সকাল ১১ টায় খিলগাঁও পল্লীমা সংসদ এবং বাদ জোহর খিলগাঁও মাটির মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেলা ১২ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
কঠোর লকডাউনে শ্রদ্ধা নিবেদন আয়োজনের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি আপত্তি জানানো হয়, তবে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। যেহেতু জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্বটিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা যাবে বলেই আমরা মনে করছি।’
তিনি আরও জানান, বাদ জোহর খিলগাঁও কবরস্থানে ফকির আলমগীরকে দাফন করা হবে।
ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণ শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর।
ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।
