এ মাসে তিনগুণের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ০১:১৯ এএম

দেশে এ বছরের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে এ মাসের সর্বশেষ ২৪ দিনে। গত ছয় মাসে যেখানে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৩৭২ জন, সেখানে গত ২৪ দিনে রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২০২ জন, যা গত ছয় মাসের মোট রোগীর তিনগুণের বেশি। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এ বছরের সর্বোচ্চ ১০৪ রোগী ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) সহকারী পরিচালক (মেডিকেল) ডা. মোহাম্মদ কামরুল কিবরিয়া জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বছর আর কোনো মাসে এত রোগী পাওয়া যায়নি। শুধু জুলাই মাসেই এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি ১০৪ জনের মধ্যে সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এর আগে জুন মাসে ২৭১, মে মাসে ৪৩, এপ্রিলে ৩, মার্চে ১৩, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন ও জানুয়ারিতে ৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪২২ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই আছেন ৪১৯ জন। আর বাকি তিনজন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ১৪৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগী ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর এখনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে একজন ভর্তি হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি, বিশেষ করে ডেঙ্গুতে ঠিক কতজন মারা গেছেন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই অধিদপ্তরের কাছে। গত কয়েক দিনে শুধু ঢাকা শহরেই ডেঙ্গুতে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর সংখ্যা জানায়নি।

সহকারী পরিচালক (মেডিকেল) ডা. মোহাম্মদ কামরুল কিবরিয়া জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। মৃত্যু পর্যালোচনা করে কোনো মৃত্যুর তথ্য আইইডিসিআর নিশ্চিত করেনি।

যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি : ঢাকার সরকারি ১২টি ও বেসরকারি ৩০টি হাসপাতালে গতকাল ৪১৯ রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে সরকারি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঁচজন ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঁচজন করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময় বেসরকারি ৩০টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ জন। হাসপাতালগুলো হলো হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল, গ্রীন লাইফ মেডিকেল হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, খিদমাহ হাসপাতাল, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সালাউদ্দিন হাসপাতাল পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৭ জন থেকে সর্বনিম্ন ১ জন করে রোগী ভর্তি আছেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তোড়জোড় রাজশাহীতে : রাজশাহী মহানগরী ও জেলাতে ফের বেড়েছে মশার দাপট। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরী ও জেলাবাসী। এরই মধ্যে চলে এসেছে ডেঙ্গুর মৌসুম। এখন করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন অনেকেই। রাজধানী ঢাকায় ইতিমধ্যে বহু ডেঙ্গু রোগী চিহ্নিত হওয়া এবং ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজশাহীতে আসায় এই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও রামেক হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিনা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) কর্র্তৃপক্ষও নিয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। এজন্য আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি রাজশাহীতে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করছি। লার্ভা ধ্বংসের জন্য অভিযানও চালাচ্ছি।’

আর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএফএম আঞ্জুমান আরা বলেছেন, ‘আমরা ডেঙ্গু নিয়ে প্রস্তুতি রেখেছি। লিফলেট বিতরণ করেছি। আমাদের কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু কিট দেওয়া আছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ মনে হলে তারা টেস্ট করতে পারবে।’

সম্ভাব্য ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী পাইনি। তবে এর আগে এখানে একবার ছড়িয়েছিল। সেজন্য প্রতিরোধের জন্য সচেতন করছি। রোগী পাইনি বলে যে রোগী পাব না তা কিন্তু নয়। ডেঙ্গুর জীবাণু আমাদের এখানে আছে। মশাও আছে। রোগী ভর্তি শুরু হলে আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালকদার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ডেঙ্গু কিট আছে। প্রতিটি উপজেলাতেই এই কিট আছে। এটির অভাব নেই। উপজেলাগুলোতে যারাই জ্বর নিয়ে যাচ্ছে তাদের অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই পরীক্ষা হচ্ছে। আমরা রিপোর্ট ঢাকায় পাঠাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।’

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘আমাদের বিভাগে এখন পর্যন্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত