মূল কাজ ফেলে আবাসন ব্যবসায় নেমেছে কউক

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০২:১৩ এএম

বিশ্বমানের পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে ২০১৬ সালে সরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে। ওই বছরের ১৩ মার্চ ৯৬০ বর্গকিলোমিটারেও বেশি এলাকা অধিক্ষেত্র ধরে ‘কক্সবাজার ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী বাস্তবায়নের কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’ গঠন করে গেজেট প্রকাশিত হয়। উদ্দেশ্য, অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও কঠোরভাবে উন্নয়ন মনিটরিং করা। কিন্তু গঠনের পরপরই সংস্থাটি ঝুঁকে গেছে বিভিন্ন প্রকল্প  বাস্তবায়ন ও আবাসন ব্যবসার দিকে। ইতিমধ্যেই চারটি একতলা বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবনে ৩৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ হাতে নিয়ে তা বিক্রি করা শুরু করেছে। আরও এক হাজার একর জমির ওপর একটি ‘স্মার্ট সিটি’ নামের প্লট প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক বাতি ও বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ শপিং মল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন হাবের জন্য গঠন করা এ সংস্থার চেয়ারম্যানসহ থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত মোট জনবল আছে মাত্র ১৯ জন। এ সামান্য জনবল দিয়ে যেখানে পরিকল্পনা বা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করাই সম্ভব নয় সেখানে সংস্থাটি হাঁটছে ভিন্নপথে। নগর পরিকল্পনাবিদরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে আবাসন ব্যবসাসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকে গেছে। যেখানে সরকার বিশ^মানের একটি পর্যটন নগরী করতে কর্তৃপক্ষ গঠন করেছেন সেখানে সংস্থাটির এমন কর্মকা-ে মূল লক্ষ্যের বিচ্যুতি ঘটবে। কক্সবাজারকে পরিকল্পিত নগরী করতে হলে সংস্থাটির পরিকল্পনা বিভাগ শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তৈরি হয় মূলত উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করার জন্য। ভূমির শ্রেণি যেমন বাণিজ্যিক, আবাসিক, শিল্প, নালা, জলাধার, পাহাড় এসব চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী তা মনিটর করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট যেসব সংস্থা কাজ করবে তারা পরিকল্পনামাফিক কাজটি করছে কি না তা দেখবে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমাদের দেশের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হওয়ার পরই নেমে যায় ব্যবসায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে সংস্থা জমির ব্যবহার নিশ্চিত করবে তারা যদি ব্যবসায় নেমে যায় তাহলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হলো কি না তা তারা দেখার নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। এখন সময় এসেছে কেন সংস্থা হয়ে তারা ব্যবসায় নেমে যায় তা খতিয়ে দেখা।’

তিনি বলেন, ‘কলকতা, দিল্লি ও সিঙ্গাপুরসহ আরও অনেক শহরের নাম বলতে পারব যেখানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের কাজ বাস্তবায়ন করে না। সিঙ্গাপুরে হাউজিং ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এইচডিবি) রয়েছে। তারা সরকারের বাসাবাড়ি নির্মাণ করে। আমাদের সরকারেরও হাউজিং অথরিটি রয়েছে। তারা আবাসনসংক্রান্ত কাজ করবে। কিন্তু কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও তাদের ওপর অর্পিত মূল কাজ বাদ দিয়ে আবাসন ব্যবসায় নেমে পড়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পও করেছে। কক্সবাজারের একটি মাস্টারপ্ল্যান আগেই হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল তাদের এ কাজটিকে গুরুত্ব দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী করতে হলে পরিকল্পনাবিদ প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখছি, কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের যথেষ্ট অনীহা রয়েছে। একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো এক অদৃশ্য কারণে শেষ পর্যন্ত তারা নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দেয়নি। আমরা এ বিষয়ে তাদের চিঠিও দিয়েছি।’

এ পরিকল্পনাবিদ আরও বলেন, ‘উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যাদের সরকার নিয়োগ দিয়েছে তাদের কোনো “ওরিয়েন্টেশন” নেই। সংস্থার সর্বোচ্চ পদ চেয়ারম্যান। তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে এখন এমন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেছেন। তিনি তো একটি শহরের পরিকল্পনার বিষয়ে তার ন্যূনতম কোনো জ্ঞান নেই। তাহলে কাজটি করবেন কীভাবে? এমনকি যারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ তাদেরও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না।’

‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬’-এ যা বলা আছে : কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, ‘কক্সবাজার ও এর সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত অঞ্চলের সুপরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন। যেহেতু কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের যথাযথ ব্যবহারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ রহিয়াছে এবং যেহেতু উক্তরূপ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য উক্ত অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন আবশ্যক এবং যেহেতু উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা পর্যটনশিল্প বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং যেহেতু এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমির উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং যেহেতু অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করাসহ অননুমোদিতভাবে নির্মিত ইমারত ও স্থাপনা অপসারণ করা জরুরি এবং যেহেতু উক্ত পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও স্থাপনাসমূহ দৃষ্টিনন্দন হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং যেহেতু ওপরে বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ সাধন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য কার্যাদি সম্পন্ন করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্বারা আইন করা হলো।’

এ আইনের ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উপধারা (১) বলা হয়েছে, ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; (২) মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের জন্য ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা, গবেষণা পরিচালনা এবং তদসংশ্লিষ্ট সকল প্রকার তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ; (৩) ভূমির ওপর যেকোনো প্রকৃতির অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলি গ্রহণ।

আইনের চতুর্থ অধ্যায়ে বলা আছে বিধিনিষেধ ও দন্ডের বিষয়ে। এর ২৪ ধারায় অনুযায়ী সংস্থাটি ইমারত নির্মাণ, জলাধার সংরক্ষণ বা পাহাড় বা টিলা কাটার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু সংস্থাটির হাতে বাস্তবায়নাধীন আবাসিক প্রকল্পের পাহাড় কাটার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘তারা (কউক) উন্নয়ন-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করার কথা বললে বলেন লোকবল নেই। কিন্তু আবাসন প্রকল্প করতে কি লোকবল লাগে না? পরিকল্পিত আবাসন করতে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা (জাগৃক) বাসাবাড়ি বানাবে। রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি, কউক তাদের মূল কাজ বাদ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর কারণ খুঁজতে গেলে ভিন্ন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে টাকা ভাগ-ভাটোয়ারার সুযোগ থাকে। সরকারের উচিত হবে যে উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে তা গুরুত্ব দেওয়া। কর্তৃপক্ষকে তাদের মূল কাজে সম্পৃক্ত রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া।’

যে কাজ করছে : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও কউক সূত্রে জানা যায়, চারটি ১৫ তলা ভবনে ৩৪০ ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বিক্রি করেছে। এক হাজার একর জমি নিয়ে হচ্ছে ‘প্লট প্রকল্প’। সব মিলিয়ে কর্তৃপক্ষ যেন আবাসন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। যদিও একই মন্ত্রণালয়ে অধীনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নামে আবাসন নিয়ে সরকারের কাজ করা একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাস টার্মিনাল) রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জাসহ প্রশস্তকরণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থে ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাতে নেওয়া এ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বাঁকখালী নদীসংলগ্ন ১৫০ ফুট প্রশস্ত সবুজ বেষ্টনী সহকারে বিকল্প সড়ক উন্নয়ন, কক্সবাজার শহরে যানজট নিরসনে সৈকত স্কুল গোল চত্বর-বিমানবন্দর সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটন শহরের জন্য কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (্এসটিপি) স্থাপন, পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য সুগন্ধা মোড়-সুগন্ধা পয়েন্ট-লাবণী পয়েন্টসহ অভ্যন্তরীণ সড়কসমূহ প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, কক্সবাজারের রেজুখাল এলাকায় সি অ্যাকুরিয়াম নির্মাণের কাজটি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শহরের ঐতিহ্যবাহী পুকুর সংস্কারসহ আলোকসজ্জা, সবুজ বেষ্টনী, স্ন্যাকস বারসহ নির্মাণের কথা রয়েছে। এছাড়া খুরু স্কুল রোডে চৌফলদন্ডি ব্রিজসংলগ্ন মুজিবঘাটে একটি ওয়াটার পার্ক নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার জন্য কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিভিন্ন সড়ক আলোকায়নে কার্বন নির্গমন হ্রাস ও পরিবেশ উন্নয়ন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইকো ফ্রেন্ডলি ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সমুদ্র তীরসংলগ্ন ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ১০ ফুট চওড়া সাইকেল ওয়ে, ৬টি চেইঞ্জিং রুম, ৫টি অত্যাধুনিক শপিং মল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনগণ দেখতে চায় যে কাজটি হচ্ছে তা কতটা কম দুর্ভোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তাঘাট করছে; এখন এটি তাদের এখতিয়ারের মধ্যে আছে কি না তা নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়তো “মাথাব্যথা” নেই। কিন্তু রাস্তা উন্নয়নের নামে কক্সবাজারে এই মুহূর্তে মানুষের যে কী ভোগান্তি হচ্ছে তা আর বলে শেষ করা যাবে না। কউক রাস্তা নির্মাণের জন্য অনেক বড় ঠিকাদার নিয়োগ করেছে বলে প্রচার করছে। কিন্তু তারা (ঠিকাদার) প্রধান সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছে। ঠিকাদার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আমলেই নিচ্ছে না। কউক থেকেও তা মনিটরিং হচ্ছে বলে মনে হয় না। ফলে যার কাজ করার সক্ষমতা যতটুকু আছে ততটুকুই করা উচিত।’

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী আমাদের ৬৯০ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। সেখানে মনিটরিং করতে হলে কমপক্ষে ২০০ লোক দরকার। আমার সংস্থায় চেয়ারম্যানসহ আছে ১৯ জন। কীভাবে এ বিশাল দায়িত্ব পালন করব। এরপরও আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০-এর মতো অবৈধ স্থাপনা ভেঙেছি। আর ৩৫০ নকশার ব্যত্যয় করার মতো ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করছি। যেহেতু মাস্টারপ্ল্যান এখনো শেষ হয়নি ফলে বসে থেকে তো লাভ নেই। তাই আবাসনসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে।’

লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই কক্সবাজার “ধ্বংস” হয়ে গেছে। এখন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা তো ভাঙা আর সম্ভব হচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত