ভেঙে পড়ল উপহারের ঘর তড়িঘড়ি মেরামত প্রশাসনের

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০২:২৪ এএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি আধাপাকা টিনশেড ঘর। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এগুলো মেরামত করে দিয়েছে।

তবে উপজেলার শাহাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্য ঘরগুলোর অবস্থাও নাজুক। ভারী বৃষ্টিতে মেঝের মাটি দেবে গেছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সমতল ভূমিতে ঘর হওয়ায় হালকা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এম জহিরুল হায়াত বলেন, ‘শাহাপুর আশ্রয়ণের ঘরগুলো আগের ইউএনওর সময় নির্মাণ করা। সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করেন। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে উদ্যোগ নেব।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা সদর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামে ২০টি আধা-পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। ছয় মাস আগে নির্মিত প্রকল্পে অর্থায়ন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আরেফিন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘরগুলো উদ্বোধন করেন। এরপর স্থানীয় এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং উপজেলা প্রশাসন মালিকদের কাছে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

তবে সম্প্রতি আশ্রয়ণের চারটি ঘরের বারান্দার ইটের খুঁটিসহ একাংশ ধসে পড়ে। ঝড়ে ১৩ নম্বর ঘরের বারান্দার ইটের খুঁটি ভেঙে চালসহ উপড়ে যায়। একটি ঘরের ইটের গাঁথুনির সামনের অংশ ভেঙে পড়ে। ১২, ১৪ ও ১৬ নম্বর ঘরের অবস্থাও নাজুক। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। কয়েকটি ঘরের মেঝের মাটি দেবে যাচ্ছে। সব মিলে ২০টির মধ্যে ১০টি ঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, আধাপাকা ঘরের ভিটে সমতল ভূমিতে। এজন্য একটু বৃষ্টিতে শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের পানি ঘরে প্রবেশ করে। নির্মাণের সময় আপত্তি জানালে প্রশাসন প্রকল্পের চারপাশে উঁচু বাঁধ ও ড্রেনেজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিল। তবে এখনো এগুলো করা হয়নি। ২০টি পরিবারের জন্য মাত্র একটি টিউবওয়েল হওয়ায় বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে।

তারা আরও জানান, ঘর ভেঙে পড়ার কথা উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়। পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লোক পাঠিয়ে তড়িঘড়ি করে সেগুলো মেরামত শেষে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই টিন গড়িয়ে ঘরে পানি পড়ে। দেয়ালে দেয়ালে ফাটল। কয়েক দিন আগে সরকারি লোকজন এসে খুঁটি মেরামত করল। কিন্তু এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে। এখানে বাস করতে ভয় লাগে।’ আরেক বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর জন্য এখানে একটি টিউবওয়েল। আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় মেয়েদের গোসল করতে অসুবিধা হয়। একটু বৃষ্টিতেই শৌচাগারের ট্যাংকি ভরে ময়লা ঘরে ঢোকে, দুর্গন্ধে থাকা যায় না।’ রোজিনা আক্তার বলেন, ‘ভূমিহীন হওয়ায় সরকারি ঘরে থাকতে এসেছি। কিন্তু সারাক্ষণ আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টি ও ঝড়ে কয়েকটি ঘরের চালা ভেঙে যায় এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে সেগুলো মেরামত করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত