আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:২২ এএম

ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি থাকায় দেশে এ ধরনের মুদ্রা লেনদেন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একে স্পষ্টিকরণ বিজ্ঞপ্তি বলেও উল্লেখ করে।

বিটকয়েন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে সিআইডির কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে পাঠানো মতামতের অংশবিশেষ কোনো কোনো পত্রিকায় খ-িতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। সবার সচেতনতার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। সেখানে যে অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল, এখনো তাই রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেকোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত নয়। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়াতে যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি) লেনদেন অথবা এরূপ কাজে সহায়তা দেওয়া ও এ সম্পর্কিত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় অনুরোধ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, অনলাইনভিত্তিক ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতিও থাকে না। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত নয়। ফলে এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন দ্বারা সমর্থিত হয় না। অনলাইনে নামবিহীন বা ছদ্মনামে প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

মূলত অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ স্বীকৃত না হওয়ায় গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন। গত ১৮ মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত