করোনা আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পাল। একই হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে শিমুল পাল (৩৮)। একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, প্রয়োজন হয় আইসিইউর। কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি একটি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা। চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ শয্যায় তোলা হয় ছেলেকে। এর ঘণ্টাখানেকের মাথায় করোনার কাছে হার মানেন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হৃদয়বিদারক ওই ঘটনা ঘটে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন কানন প্রভা পাল। কয়েক দিন পর ছেলে শিমুল পালের করোনা শনাক্ত হলেও তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, কানন প্রভার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। অন্যদিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছেলে শিমুলের অবস্থারও ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে গত মঙ্গলবার। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউর ১৮টি শয্যার একটিও খালি না থাকায় তাকে সেখানে স্থানান্তর করা যাচ্ছিল না।
জেনারেল হাসপাতালের কভিড ফোকাল পারসন ডা. আবদুর রব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের আইসিইউ বেডে শুয়ে ছেলের খবর শোনার পর সেদিন শিমুলের মা ইশারা করেন, তাকে বাদ দিয়ে যেন ছেলে শিমুলকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়। শেষে পরিবারের সবার সম্মতিতে তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ মাকে সরিয়ে ছেলে শিমুল পালকে আইসিইউ বেডে স্থানান্তর করে। এরপর ওই বৃদ্ধার (কানন প্রভা) শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, ঘণ্টাখানেক পরেই তিনি মারা যান। বর্তমানে শিমুলের শারীরিক অবস্থাও ভালো নেই।’
