জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল। সাবেক এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ব্যক্তি ৩৭তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রীও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে ভুক্তভোগী জহুরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি অভিযোগপত্র প্রত্যাহার করেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী ব্যক্তি তার স্ত্রী ও সন্তানসহ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশমাইল স্টাফ কোয়ার্টারের তার শ্বশুর বাড়ি থেকে থেকে স্কুটি চালিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিলেন। উপাচার্যের বাসভবনের কাছে আসলে তাদের পেছনে থাকা একটি গাড়ি বারবার হর্ন দিচ্ছিল। তখন গাড়িটিকে ওভারটেক করে যাওয়ার সংকেত দেন সাবেক ওই শিক্ষার্থী। পরে গাড়িটি পরিবহন চত্বরে থামতে দেখে অভিযোগকারীও সেখানে স্কুটি থামান।
অভিযোগে বলা হয়, তখন ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী এক ছেলেকে গাড়ি চালাতে দেখেন তিনি। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা মেহেদী ইকবালকে গাড়ি চালাতে অনুরোধ করেন তিনি। তখন মেহেদী ইকবাল ‘উগ্রভাবে’ তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। তবে সহকারী প্রক্টরকে না চেনার কারণে তখন নিজেদের পরিচয় দেননি অভিযোগকারী।
মেহেদী ইকবাল গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে ‘উগ্র ও মারমুখী’ আচরণ করেন বলে লিখিত অভিযোগপত্র ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।
লিখিত অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, মেহেদী ইকবালের পরিচয় জানার পর ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রী দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তখন মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসার কোনো অধিকার নেই। তোমাকে এখানে ঢুকতে দিয়েছে কে? এই ক্যাম্পাস আমার। আমি যা বলব তাই হবে। তোমরা এই মুহূর্তে বের হয়ে যাও। এখানকার সবাই আমাকে চেনে। আমার ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই। আমি যা খুশি তাই করতে পারি। আশপাশের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবে মেহেদী ইকবাল কে।’
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এরপর ভুক্তভোগীদের ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ডেকে তাদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করে মেহেদী ইকবাল।’
অভিযোগ তুলে নেয়ার বিষয়ে ওই সাবেক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিচয় দেওয়া নিয়ে ঘটনার সময় মেহেদী ইকবাল স্যারের সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সেটি বুঝতে পেরে অভিযোগপত্র তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
তিনি নাম প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানান এ প্রতিবেদককে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মেহেদী ইকবালকে একাধিকবার ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) আমার কাছে এমন একটি অভিযোগপত্র এসেছিল। তবে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ওই অভিযোগকারী সেটি তুলে নেয়ার কথা জানান।’
