রিমান্ডে কৌশলী হেলেনা জাহাঙ্গীর ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০২:১৫ এএম

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া গ্রেপ্তার হেলেনা জাহাঙ্গীরের ভাই দুলাল শরীফকে গতকাল রবিবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে তিন দিনের রিমান্ডে থাকা হেলেনাকে মাদকদ্রব্য আইনে গুলশান থানায় করা মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ শাহানুর রহমান। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হেলেনার কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৯টি চেকবইয়ের সূত্র ধরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা আছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানানো হবে। তাছাড়া তার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ব্যাংক হিসাবে কী ধরনের টাকা রয়েছে বা লেনদেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জয়যাত্রা টিভির কার্যালয় থেকে দুলাল শরীফকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ‘জয়যাত্রা’ নামক আইপি টিভি চ্যানেল পরিচালনার কারণে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে র‌্যাব পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছিল। সেই মামলায় দুলালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেইসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন বা ছবি প্রচার করত সাইবার টিম। নানা ছুতোই হেলেনা ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ওইসব ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর করে অনেককেই ট্র্যাপে ফেলেছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, চিকিৎসক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, আমলাসহ একাধিক পেশাজীবীর লোকজন। মানসম্মানের ভয়ে তারা কাউকে এতদিন কিছু বলতে পারেননি। ট্র্যাপে পড়েও বিষয়টি তারা চেপে গেছেন। হেলেনা গ্রেপ্তারের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী এ ব্যাপারে র‌্যাব সদর দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হেলেনার কাছ থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর হাসিমুখে দিয়েছেন। আবার অনেক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে; এমন প্রশ্নে ছিলেন নীরব। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৯টি চেকবইয়ের সূত্র ধরে পুলিশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা আছে; তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানাবে।

র‌্যাবের একটি সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের মাঠপর্যায়ের তদন্তকারী কর্মকর্তারা হেলেনা ও তার স্বামীর মালিকানাধীন পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানার সন্ধান পেয়েছেন। গার্মেন্টসগুলো হচ্ছে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে নিট কনসার্ন ইউনিট এবং জেসি এমব্রয়ডারি, হুমায়ারা স্টিকার, জয় অটো গার্মেন্টস ও প্যাক কনসার্ন প্রতিষ্ঠান চারটি নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। প্যাক কনসার্ন যৌথ মালিকানাধীন। এছাড়াও আরও আটটি পোশাক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটির জন্য তিনি জমি অধিগ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তার প্যাকেজিং কারখানা প্রক্রিয়াধীন ছিল। এসব তৈরি পোশাক কারখানা তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম দেখাশোনা করেন। কিন্তু কীভাবে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন সে ব্যাপারে হেলেনা জাহাঙ্গীর র‌্যাবের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত